পঞ্চগড়ে চারার হাটে কদর বেড়েছে বিভিন্ন ধরণের চারাগাছের

পঞ্চগড়ে চারার হাটে কদর বেড়েছে বিভিন্ন ধরণের চারাগাছের

রংপুর বিভাগ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ বর্ষাকাল আসতে আর খুব বেশিদিন বাকি নেই। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বর্ষার বৃষ্টি। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এটাই গাছ লাগানোর মোক্ষম সময়। কারণ এ সময়টাতে গাছ লাগালে কোন ধরণের সেচ দিতে হয়না। পুরো বর্ষার বৃষ্টিতে জমিতে লাগানো চারাগাছ পোক্ত হয়ে যায়। এই সময়টাতে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে নার্সারী মালিকরাও। শীত আর তপ্ত গরমের কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস নার্সারীতে গাছ বিক্রয় না হওয়ায় হা হুতাশ করছিলেন তারা।

চারাগাছ বিক্রয় না হলেও নিয়মিত সেচ আর চারাগাছ পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হয়েছিল তাদের। মৌসূম শুরু হয়ে যাওয়ায় ছোট নার্সারী মালিকরা বড় নার্সারী মালিকদের কাছ থেকে চারা কিনে জড়ো করছেন। এতে করে তাদের বেশ বিনিয়োগও করতে হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বাগান করার জন্য চারা কিনতে অনেকেই এখন দারস্থ হচ্ছেন নার্সারী মালিকদের কাছে। নার্সারীতে চারা গাছ বিক্রয়ের পাশাপাশি তারা চারাগাছ নিয়ে হাজির হচ্ছেন শহর বা গ্রামের হাট বাজারগুলোতে। গ্রামের হাটবারগুলোতে বিক্রয় হচ্ছে প্রচুর পরিমানে চারাগাছ। অনেকে আবার রিকসা-ভ্যানে করে চারা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চারা বিক্রয় করছেন।

পঞ্চগড় জেলা শহরের পৌর ভবনের সামনে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের ধারে গত মাসখানেক আগে থেকে বসেছে চারার হাট। বিভিন্ন ধরণের গাছের চারা নিয়ে সকাল থেকেই এখানে এসে বসেন নার্সারীর লোকজন। সড়ক দিয়ে যাওয়া আসার পথে পথচারীরা থেকে এখান থেকে চারা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। পঞ্চগড় জেলা শহর হলেও প্রতি সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার এখানে হাটবার। সপ্তাহের এই দুইদিনে পঞ্চগড়ের ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে। এই দুইদিন সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রয় হয়।

এ নিয়ে কথা হয় জেলা শহরের ধাক্কামারা এলাকার অন্তর নার্সারীর মালিক মাসুদ রানার সাথে। তিনি জানালেন, বর্ষা মৌসূমকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন নার্সারী মালিকদের। আমি এরই মধ্যে পাশ্ববর্তি জেলা থেকে অনেক টাকার চারা কিনে এনেছি। চারা বিক্রয় শুরু হয়ে গেছে। অনেকে আমার নার্সারী থেকে চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষ করে যারা বাগান করবেন তারাই আসছেন সরাসরি নার্সারীতে। তিনি জানান, এবার লটকনের চারার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনেকে বাগান করার জন্য লটকনের চারা নিচ্ছেন। নার্সারী ছাড়াও পৌর ভবনের সামনে মহাসড়কের ধারে প্রতিবছর এই সময়টাতে আমরা চারা এনে বিক্রয় করি। আমিও গত কয়েকদিন ধরে এখানে চারা এনে বিক্রয় করছি। রোববার ও বৃহস্পতিবার হাটবারে এখানে প্রচুর পরিমানে চারা বিক্রয় হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে চারার চাহিদা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য