দিনাজপুর ১২৩

সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, ফাঁকা নেই আইসিইউ

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে করোনার সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। সেইসাথে বাড়ছে মৃত্যুর হার। হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাক চালক ও হেলপারদের করোনা পরীক্ষার আবেদনের ব্যাপারে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী ৭টি উপজেলার মানুষ। আইসিইউ ও এইচডিইউ এর শয্যা খালি নেই।

সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে ক্রমশ করোনা সংক্রমণের হার দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। জেলা করোনা বিষয়ক স্বাস্থ্য বিভাগের ভোকাল পার্সন ডাঃ এজাজুল হক জানান, সোমবার পর্যন্ত এ যাবৎ করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৮০৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই আক্রান্ত ৩ হাজার ২৫৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৩ জন আর মারা গেছেন ১২৮ জন। গতকাল সোমবার ৩৩ জন করোনা সংক্রমণকারীর মধ্যে ২০ জনই সদর উপজেলার। দিনাজপুরে করোনা সংক্রমণের শতকরা হার ১৪ দশমিক ২৮ ভাগ।

জানা যায়, দিনাজপুর জেলায় করোনা রোগীর জন্য শয্যা সংখ্যা ২৩০টি। এর মধ্যে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫টি, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩৫টি এবং ১২টি উপজেলা কমপ্লেক্সে ১০টি করে মোট ১২০টি শয্যা করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারন করা আছে। তবে মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালে কেবলমাত্র সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপলাইয়ের ব্যবস্থা থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা চলছে।

সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, ১২টি উপজেলার জন্য ৯শ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছে। দিনাজপুরে ৩শ জন পর্যন্ত করোনা রোগী চিকিৎসা সেবা প্রদানের সক্ষমতা রয়েছে।

তবে রোগীর সংখ্যা দিন দিন যেভাবে বাড়ছে তাতে করে চিকিৎসার সামাল দেওয়া কষ্টকর হতে পারে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আইসিইউ’র ১৫টি ও এইচডিইউ’র ১১টি শয্যা বর্তমানে পরিপূর্ণ রয়েছে। এখানে কোন শয্যা খালি নেই। মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৯ জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুরে বর্তমানে ২০২ জন করোনার রোগীর মধ্যে ৩৪জন হাসপাতালে ও ১৬৮ জন হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দেশের অন্যতম স্থলবন্দর হিলির অপারেটিং সংস্থা পানামা ট্রেড লিংক এর জনসংযোগ কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের মোকাবেলার জন্য এখানে বন্দর কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মহল ও সংগঠন যৌথ বৈঠক করে করোনা মোকাবেলায় ভারতীয় ট্রাকের সংখ্যা অর্ধেকের চাইতে কমিয়ে এনেছেন। প্রতিদিন যেখানে ২শ ভারতীয় ট্রাকের ৪শ জন চালক ও হেলপার আমদানী পণ্য নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করে কমপক্ষে ২-৩ দিন অবস্থান করতেন এখন সেখানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৮০টি ট্রাকে ভারতীয় ১৬০জন চালক ও হেলপারকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন আমদানি পণ্য খালাস করে ভারতীয় ট্রাক চালক ও হেলপারদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এখন আর তাদের হিলিতে অবস্থানের সুযোগ রাখা হয়নি।

তিনি জানান, হিলি স্থলবন্দরের কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন, আমদানী-রপ্তানীকারক গ্রুপ, অপারেটিং এজেন্সি জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে ভারতীয় ট্রাক চালক ও হেলপারদের করোনা পরীক্ষার যে প্রস্তাব দিয়েছে তা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তের কথা জানান নি।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতার কারণে করোনা ঝুকিতে পড়েছে দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী ৭ উপজেলা দিনাজপুর সদর, বিরল, ফুলবাড়ী, হাকিমপুর, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট ও বোচাগঞ্জ উপজেলা। তবে সবেচেয়ে বেশি ঝুকিতে পড়েছে হাকিমপুর উপজেলা। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর সরকার ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশী যাত্রীদের দেশে ফিরে আসার জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে।

ফলে ভারতে করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী এই উপজেলা। ভারত ফেরত করোনা আক্রান্ত ৩ জনের নমুনা আইসিডিডিআরএ পাঠানোর ৫ দিনেও রিপোর্ট আসেনি। এই ৩ জন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কি না তা জানার জন্যই এই নমুনা পাঠানো হয় বলে জানান ফোকাল পার্সন ডাঃ এজাজুল হক। তবে তিনি আশা করেন ২-১ দিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য