গাইবান্ধায় ইতালিয়ান নাগরিকের সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধায় ইতালিয়ান নাগরিকের সংবাদ সম্মেলন

রংপুর বিভাগ

সংবাদ সম্মেলনঃ তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রীর মদদে তার সন্ত্রাসী চক্রের প্রতারণা, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি এবং সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিটের শিকার হয়েছে গাইবান্ধার পলাশপাড়ার ইতালিয়ান নাগরিক মো. আহমেদ রোকন উদ্দিন। অপহরণকারী সন্ত্রাসী চক্রের কবল থেকে রক্ষা পেলেও এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও সম্পদ বেহাত হওয়ার শংকায় রয়েছেন তিনি। রোববার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ রোকন উদ্দিন এর প্রতিকার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ রোকন উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গাইবান্ধা পৌরসভার পলাশপাড়ার মৃত নুরুন্নবী সরকারের ছেলে আহমেদ রোকন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে চাকরি করাকালিন সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর গ্রামের মৃত আনছারুল ইসলামের মেয়ে আরিফা আহমেদের সাথে বিয়ে হয়। এরপর তিনি সস্ত্রীক ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইতালিতে বসবাস করে। একপর্যায়ে আরিফা বেগম দেশে আসার পর তাকে একতরফা তালাক দেয়। পরে আহমেদ রোকন উদ্দিনও ওই স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য হয়। তালাক দেয়ার পর পুনরায় আরিফা আহমেদ নিজের ইচ্ছায় লন্ডনে চলে যায়।

এরপর গত ১ ফেব্রুয়ারি আহমেদ রোকন গাইবান্ধায় আসে। গাইবান্ধায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুনরায় তাকে বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিলে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী আরিফা আহমেদ বিষয়টি জানতে পেরে তার অর্থ-সম্পদের লোভে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই একপর্যায়ে গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র মতলুবর রহমান দুই পরিবারকে ডেকে পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধান করতে বলেন।

এমতাবস্থায় গত ২০মে রাত সাড়ে ৯টায় সার্কুলার রোডের বিএনপি অফিস সংলগ্ন ভিআইপি নামে একটি সেলুনের সামনে থেকে একদল সন্ত্রাসী আহমেদ রোকনকে অপহরণ করে মটর সাইকেলে তুলে এটিআই (বাংলা বাজার) এর ভেতরে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাকে বেদম মারপিট ও অবরুদ্ধ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশে কর্মরত সজিব মিয়া তাকে হত্যার চেষ্টা করে।

এছাড়াও সাদা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা পকেটে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তার স্যামসাং মোবাইল ভেঙে ফেলে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। এব্যাপারে তালাক প্রাপ্ত প্রথম স্ত্রীর মা শাহিনুর বেগম ও আরিফা আহমেদের খালাতো ভাই ডিবি পুলিশের সদস্য মো. সজিব মিয়াকে আসামি করে রোকনের বড় ভাই সেলিম সরকার বাদি হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে তার নিকটাত্মীয় শাহরিয়ার হোসেন সিয়াম, খান মো. মাসুদুর রহমান মিথুন ও হারুন মিয়া।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য