ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় বীরগঞ্জে বিক্রয় হচ্ছে অপরিপক্ব লিচু

ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় বীরগঞ্জে বিক্রয় হচ্ছে অপরিপক্ব লিচু

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ এবার একের পর এক দুর্যোগের পরেও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ বাজারে মৌসুম শুরু হওয়ার আরও ক’দিন বাকি থাকলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে লিচু। বীরগঞ্জ উপজেলা অফিস বলছে, অপরিপক্ব লিচু প্রকৃতি এবারের পরিবেশ অনুযায়ী জাতভেদে আগাম জাতের লিচু পরিপক্ব হতে সময় লাগবে অন্তত আরও ১৫ দিন। প্রতিকূল আবহাওয়া আর ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় পুরোপুরি রং আসার আগেই লিচু বিক্রি করতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। বাগান মালিকারা আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন হয়েছে কম।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে প্রধান লিচুর বাজার পৌর শহরের তাজ মহল সিনেমা হলের সামনে ফলের বাজারে শনিবার গিয়ে দেখা যায়, অপরিপক্ব লিচু দিয়েই জমতে শুরু করেছে লিচুর বাজার । এর মধ্যে অধিকাংশ লিচুরই গায়ে রং আসেনি এবং আকারেও ছোট। বাজারে এসব অপরিপক্ব লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রতিশ’১৮০ থেকে ২শ ৫০ টাকা দরে।

এই বাজারে লিচু বিক্রি করতে আসেন বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে লিচু চাষীরা জানান, লিচুর গায়ে এখনও রং আসনি। সবুজ রং-ই লেগে আছে লিচুর গায়ে। এই অপরিপক্ব লিচু বাগান থেকে বাজারে বিক্রি করতে আনার কারণ হিসেবে বাগান মালিকরা বলছেন, অধিক গরম ও রোদের কারণে লিচু ফেটে যাচ্ছে। তাছাড়া ঝড় ও বৃষ্টিতে লিচুর ক্ষতি হতে পারে। করোনার এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা লিচু বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি হাজার লিচু ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। পরে এই দামই যদি না তুলতে পারেন এমন আশঙ্কায় যা টাকা পাচ্ছেন, তাই দিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচা থাকতেই বাগান মালিকরা বাজারে লিচু নিয়ে আসছেন। এসব লিচু কিনে সামান্য কিছু লাভ রেখেই তারা লিচু বিক্রি করছেন ভোক্তাদের কাছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বীরগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েক জাতের লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে মাদ্রাজি লিচু পরিপক্ব হয়ে মে মাসের শেষের দিকে, বোম্বাই ও বেদেনা পরিপক্ব হয় জুন মাসের ১০ তারিখের পর , এবং সবশেষে পরিপক্ব হয় চায়না -৩ লিচু। তিনি জানান, এবার আবহাওয়ার কারণে লিচুর ফুল আসতে দেরি হয়।

এই কারণে এবার লিচু পরিপক্ব হতে আরও সময় লাগবে। কিন্তু ইতিমধ্যে ব্যাপক হারে অপরিপক্ব লিচু বাজারে আনতে শুরু করেছে লিচুর বাগান মালিকরা। এসব লিচুর স্বাদ এখনও হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি পরিপক্ব হওয়ার পর লিচু বাজারে আনার জন্য বাগান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য