বরিশালে বিয়ে বাড়িতে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

জাতীয়

জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের সলদি গ্রামের একটি বিয়ে বাড়িতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।

নিহতরা হলেন-স্থানীয় সামসুল হকের পুত্র দিনমজুর সিদ্দিকুর রহমান (৩০) ও একই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম ঢালী ওরফে রবি ঢালীর ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুস সাত্তার ঢালী (৫৭)। এরমধ্যে ঘটনাস্থলেই সিদ্দিকুর রহমান এবং বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবদুস সত্তার মারা যায়। পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। তাদের একজনের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার লেত্রা গ্রামে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর উলানিয়া ইউনিয়ের স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালাম বেপারী ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক জামাল রাঢ়ীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে সম্প্রতি সময়ের সংঘর্ষে একজন নিহতও হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম ঢালীর বাড়িতে তার নাতনীর বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে আসেন ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক জামাল রাঢ়ীর। এ খবর পেয়ে একই গ্রামের কামাল বেপারী ও সুমন বেপারীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বিয়ে বাড়িতে অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কমপক্ষে ১৫ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। হামলায় ঘটনাস্থলেই দিনমজুর সিদ্দিকুর রহমান নিহত হন। এ ছাড়া ইউপি সদস্যর ভাই সাত্তার ঢালীকে মুমূর্ষ অস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুপুর দেড়টার দিকে সে মারা যায়।

অপর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দিনমজুর সিদ্দিকুর রহমান মেম্বারের বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ক্ষেতে কাজ করছিলেন। ঘটনা দেখে তিনি ক্ষেত থেকে উঠে রাস্তার উপর দাঁড়ালে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়দের অভিযোগ হামলাকারীদের অধিকাংশের বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জের বাহিরে। তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছে। পুলিশ যে তিনজনকে আটক করেছে তারাও বহিরাগত।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, নির্বাচনী বিরোধের জেরধরে সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংর্ঘষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলসহ উপজেলার প্রতিটি গুরুত্বপুর্ণ মোড় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ এপ্রিল উলানিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় সাইফুল সরদার নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় ডাবল মার্ডারের ঘটনা ঘটলো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য