মার্কিন বাধার কারণে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন বিষয়ক বৈঠক ব্যর্থ

মার্কিন বাধার কারণে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন বিষয়ক বৈঠক ব্যর্থ

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানানোর জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ফের ব্যর্থ হয়েছে এবং কোনো ফলাফল ছাড়াই তা শেষ হয়েছে। মার্কিন সরকারের বাধার কারণেই ইসরাইলকে নিন্দা জানানোর বিষয়ে সর্বসম্মতি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসরাইলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর মধ্যকার সংঘাতের বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য চীন, তিউনিসিয়া ও নরওয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত এক সপ্তাহে ফিলিস্তিন বিষয়ে এটি ছিল তৃতীয় বৈঠক। মার্কিন ষড়যন্ত্র ও বাধার কারণে যৌথ কোনো বিবৃতি প্রকাশ ছাড়াই এবং ইসরাইলের নিন্দা জানানো ছাড়াই এর আগের দুটি বৈঠকও শেষ হয়েছিল। ওই বৈঠকগুলোতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে উত্তেজনা কমিয়ে আনার আহ্বান জানালেও যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করে।

এবারের তৃতীয় বৈঠকের বিবৃতিতেও চীন, নরওয়ে ও তিউনিসিয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় সৃষ্ট মানবেতর পরিস্থিতি এবং বেসামরিক মানুষজনের প্রাণহানীর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে মানবাধিকারের নীতিমালাসহ আন্তর্জাতিক সমস্ত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের বিরোধিতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদ ফিলিস্তিন ইস্যুতে একসুরে কথা বলতে পারেনি। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, মানবাধিকারের ব্যাপারে মার্কিন ভণ্ডামি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। ইসরাইলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের বহু নিরীহ মানুষ নিহত হলেও যুক্তরাষ্ট্র টু শব্দটিও করেছ না। তিনি ফিলিস্তিন বিষয়ে নীতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিন বিষয়ে মার্কিন নেতিবাচক ভূমিকা এবং ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা দেয়া থেকে বোঝা যায় মার্কিন প্রশাসন মানবাধিকারের কথা বললেও তারা গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা এবং জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও কুদস শহরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে সম্পূর্ণ চোখ বুজে আছে।

প্রকৃতপক্ষে, ইসরাইলের আত্মরক্ষার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় নিরপরাধ মানুষের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলাকে সমর্থন দিচ্ছে। অথচ গণমাধ্যমের সাহায্যে সারা বিশ্বের মানুষ গাজায় ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে। ইসরাইলি সেনারা গত মঙ্গলবার থেকে গাজায় ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে পদক্ষেপ গ্রহণের বিরুদ্ধে বাধা দিয়েছে। ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৪৪ বার ইসরাইল-বিরোধী নিন্দা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। বলা যায় মার্কিন বাধার কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আজ পর্যন্ত ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

বর্তমান বাইডেন প্রশাসন মানবাধিকারের পক্ষে বড় বড় বুলি আওড়ালেও আমেরিকার আগের প্রেসিডেন্টদের নীতির সঙ্গে বাইডেনের নীতির কোন পার্থক্য নেই। এবারও মার্কিন সবুজ সংকেত পেয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে। খোদ মার্কিন কংগ্রেসে বাইডেনের নীতির তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। -পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য