ভারতের মহারাষ্ট্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ২ হাজার

ভারতের মহারাষ্ট্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ২ হাজার

আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে নতুন করে আশঙ্কা ছড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই দুই হাজার করোনা রোগীর শরীরে এই ছত্রাকের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উড়িষ্যা, দিল্লি, গুজরাটসহ আরও কয়েকটি রাজ্যে এই ছত্রাকের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় বলা হচ্ছে ‘মিউকোরমাইকোসিস’। করোনায় আক্রান্তদের দেহেই এই সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। অনেকে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েও এতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অনেকে মারাও যাচ্ছেন। তা ছাড়া দেহের বিভিন্ন ক্ষতি করছে এ ছত্রাক।

মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে জানিয়েছেন, ‘দুই হাজারের বেশি রোগীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস দেখা গেছে। করোনা রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে এই ছত্রাকের সংক্রমণও বাড়বে। মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালগুলোতে ছত্রাকে সংক্রমিতদের চিকিৎসা করা হবে।’

বুধবার মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় নতুন করে দুই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগীর মৃত্যুর হয়েছে। এছাড়াও জেলাটিতে আরও ছয় রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মধ্য প্রদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজ্যটিতে এই ছত্রাকে আক্রান্ত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ছত্রাকের চিকিৎসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছেন রাজ্যটির চিকিৎসকেরা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে গুজরাট রাজ্যেও। এই ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় রাজ্যটির হাসপাতালগুলোতে নতুন ওয়ার্ড খোলা হচ্ছে। গুজরাটে এখন পর্যন্ত এক শতাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

এই ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, জ্বর, চোখের নিচে ব্যথা, সর্দি, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। অনেকের প্রবল কাশি, শ্বাসকষ্ট, রক্ত বমিও হতে পারে।

ভারত সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব করোনা রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস এবং দীর্ঘ সময় আইসিইউতে থাকা হয়েছে তাদের জন্য ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ প্রাণঘাতী হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য