ঈদের দিনের সাজগোজ

ঈদের দিনের সাজগোজ

সাজগোজ টিপস

ঈদ মানেই আনন্দ। আর তাই ঈদ উৎসবের আয়োজনে সবাই চায় নিজেকে নান্দনিকরূপে সাজিয়ে তুলতে। এখন সময় ঈদুল ফিতরের। রোজার ঈদের প্রস্তুতিটাও অনেকটা ভিন্ন হয়ে থাকে। সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করাতে ঈদের সাজের ধরনেও থাকে বাড়তি সচেতনতা। যেহেতু বৃষ্টির সম্ভাবনা আর গরমের বেশ দাপট চলছে। তাই প্রকৃতির ধরন আর বেলা বুঝে সাজের বিষয়টি খেয়াল রাখার ওপর জোর দিন। দুপুরের সাজে চুল বেঁধে রাখা যেমন আবশ্যক, তেমনি রাতের বেলার পোশাকটা দিনের অন্য বেলার চেয়ে একটু জমকালো হলে ক্ষতি নেই।

ঈদুল ফিতরের আনন্দ আলাদা। তবে শুরুতেই খেয়াল রাখতে হবে ঈদের এই কয়েকটা দিনের আবহাওয়া কী বলে। এবারের ঈদুল ফিতর যেহেতু গরমের মধ্যে, তাই ঈদের সাজকেও দুই ভাগে ভাগ করে নিতে পারেন। ঈদুল ফিতরে; মানে সকালটা সবাই ব্যস্ত সময় পার করেন। তাই ঈদের দিনের সাজে হালকা মেকআপ হতে পারে আদর্শ। কেননা, প্রচন্ড গরম আর রান্না নিয়ে ব্যস্ততা। ভারি বা গর্জিয়াস সাজটা এই সময় একেবারেই বেমানান।

তবে দিনের বেলায় যদি কেউ বেড়াতে যেতে চান তবে হালকা সাজের (মেকআপ) সঙ্গে একটু গর্জিয়াস পোশাক পরতে পারেন। আর শাড়ি পরিধান করতে চাইলে সঙ্গে রাখুন আরামদায়ক ব্লাউজ। দিনের বেলায় মেকআপের ক্ষেত্রে খুব বেশি এক্সপেরিমেন্টের প্রয়োজন নেই। শুধু বিবি ক্রিম দিয়েও সাজটা পরিপূর্ণ করতে পারেন। চাইলে কম্প্যাক্ট পাউডার, কাজল, কালার আইলাইনার এবং নিউট্রাল শেডের লাইনার পাওয়া যায় সে সব প্রোডাক্ট দিয়েই দিনের বেলার সাজে পূর্ণতা দিতে পারেন। চুলের স্টাইলিংয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি কারসাজি না করাই ভালো। সিম্পল স্ট্রেইট ব্রাশ বা হালকা ব্লো ড্রাই করে বের হতে পারেন।

মনে রাখবেন, গরমকালে দিনের সাজটা যেন দেখতে দৃষ্টিকটু না লাগে। দিনের বেলা বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে আপনার সাজটা আরও গর্জিয়াস লাগবে। রোদ থেকে বাঁচতে স্কার্ফ বা ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রচন্ড গরমের দিনে সাজে ঝরঝরে ভাব আনলেই পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার দুপুরবেলার মায়াময় সাজ।

রাতের বেলার সাজে গরমের প্রভাব কম থাকবে। একটু ভারি সাজ (গ্ল্যামারাস লুক) এ সময় করাই যায়। এক্ষেত্রে চুলের সাজে একটু স্টাইল করা যেতেই পারে। পিঠময় চুল কোঁকড়া করে ছড়িয়ে রাখা যেতে পারে। একপাশে সিঁথি করে সামনের চুলগুলো হালকা টুইস্ট করে নিয়ে একপাশে খোঁপা করে নিতে পারেন। শাড়ি কিংবা ফিউশনধর্মী যে কোনো পোশাকেই দারুণ মানিয়ে যাবে।

আর পোশাক হিসেবে গর্জিয়াস শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরতে পারেন। সাজে আনতে পারেন পাশ্চাত্যের ছোঁয়া। রাতের সাজে ফাউন্ডেশন, কম্প্যাক্ট পাউডার দিয়ে একটু ভারি সাজ দেওয়া যেতে পারে। হাইলাইটার, ডার্কার আইশ্যাডো, আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। সেই সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন লিপগ্লস, ম্যাট ফিনিশার লিপ কালার। আর হ্যাঁ হাতের নেইলগুলোর দিতে পারেন নতুন নকশা। আর দেশীয় বা ট্রেডিশনাল সাজে চুলের সাজে জুড়ে নিতে পারেন ফুল। আর সম্পূর্ণ সাজটাই নির্ভর করবে আপনি কি ধরনের সাজ সাজবেন ঠিক তার ওপর। তবে সাজটা যেন সবকিছুর সঙ্গে ঠিকঠাক মানিয়ে যায় সেদিকটা খেয়াল রাখতে হবে।

সকলকে ঈদ মোবারক

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য