কুড়িগ্রামর রকমেলন চাষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাফল্য

কুড়িগ্রামর রকমেলন চাষে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাফল্য

রংপুর বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ অর্গানিক ও আধুনিক মালচিং পেপার পদ্ধতিতে উন্নতজাতের বিদেশি সাম্মাম ও রকমেলন/হানিমেলন চাষ করে সবার নজন কেড়েছেন। প্রথমবারের মত ফলটি এ অঞ্চলে চাষ হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গার মানুষ তার ক্ষেতে দেখতে আসছেন। শিক্ষার্থীর ফারুক আহমেদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকা শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতকোত্তর বিভাগে পড়াশুনা করেন। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে রকমেলন চাষ করা সম্ভব বলে মনে করেন এ শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, রকমেলন হল মাস্কমেলন গোত্রের একটি উচ্চমূল্যের বিদেশী ফল। উপরের ত্বক পাথর (রক) এর মতো হওয়ায় অস্ট্রেলিয়াতে রকমেলন নামে পরিচিত। আরব দেশগুলোতে একে সাম্মাম বলে। উর্দুতে খরবুজ বা খরবুজা, আমেরিকাতে ক্যান্টালোপ, এশিয়াতে মেলন নামে পরিচিত। সুইট-মেলন বা মিষ্টি বাংগিও বলেন অনেকে। পুষ্টিগুণে রকমেলন অনন্য। বিভিন্ন এন্টি-অক্সিডেন্ট সম্পন্ন এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং সি, যা উচ্চ রক্তচাপ, এজমা কমিয়ে দেয়। এতে উপস্থিত বেটা ক্যারোটিন ক্যান্সার রোধ করে।

সরেজমিনে উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের ফারুক আহমেদের রকমেলন ও সাম্মাম প্রকল্পে গিয়ে কথা বলে জানা গেছে, মহামারী করোনায় সব বন্ধ হলে গ্রামে ফিরে আসেন তিনি। পরে এক প্রতিবেশির পতিত ১৫ শতক জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি উন্নত জাতের রকমেলন ও সাম্মাম চাষ শুরু করেন। উৎপাদনও হয়েছে বেশ। অল্প সময়ের মধ্যে উন্নত জাতের বিদেশি সাম্মাম ও রকমেলন এ অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ফারুক আহমেদ জানান, আমাদের কুড়িগ্রাম জেলা কৃষিতে অনেক পিছনে। এই এলাকার মানুষ এখনো ধান চাষে পড়ে আছে। ধান চাষের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে কম খরচে উচ্চ ফলনশীল বিদেশী রকমেলন ও সাম্মাম চাষ করলে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। এ এলাকার বেকার,শিক্ষিত যুবকরা যদি চাকরির আশায় না থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করে, তাহলে এক দিকে যেমন বেকারের সংখ্যা কমে যাবে, অন্যদিকে দেশ তথা আমাদের কুড়িগ্রাম অঞ্চল কৃষিতে এগিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, উচ্চমূল্যের বিদেশী রকমেলন ও সাম্মাম ফল খুবই লাভজনক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ফল চাষ করে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বর্তমানে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক উদ্যোক্তা হিসেবে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে আগ্রহি হয়ে উঠেছে। ফারুক আহমেদের মত এ অঞ্চলের বেকার যুবকরা উচ্চমূল্যের ফলন চাষে এগিয়ে আসলে আমরা তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করব। ওনি চাইলে কৃষি ঋণের জন্য সুপারিশ করবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য