করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হলো বাংলাদেশে

করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হলো বাংলাদেশে

জাতীয়

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার তথ্য দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআর।

স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেছেন, ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে আসা আট জনের নমুনা পরীক্ষার পর তাদের ছয় জনের করোনা শনাক্ত হয়েছেন।

“এর মধ্যে দুই জনের নিশ্চিতভাবে এবং চার জনের মধ্যে আংশিক ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিশ্চিত হয়েছে আইডিসিআর ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ,” নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলছিলেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে করোনার এ ভ্যারিয়েন্টটির সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি তাই সবাইকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, করোনার ভারতীয় ধরনটি ‘বি.১.১৬৭’ নামে পরিচিত যা অতি সংক্রামক বলে বিভিন্ন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এ ধরণ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক তথ্য-উপাত্ত মূল্যায়ন করে এমন একদল বিশ্লেষক সম্প্রতি বলছেন, করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন বাংলাদেশে প্রবেশ করলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা আছে।

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক তথ্য উপাত্ত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পদক্ষেপ, ভাইরাসের বিস্তারের ধরন – এমন নানা কিছু বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকদের দলটি যে সম্ভাব্য চিত্র তৈরি করেছে তাতে একথা বলা হয়।

বাংলাদেশি বিশ্লেষকদের দলটির আনুষ্ঠানিক নাম বাংলাদেশ কমো মডেলিং গ্রুপ। অক্সফোর্ডের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আরও ৪২টি দেশের গবেষক ও বিশ্লেষকদের সাথে তারা কাজ করছেন।

এর আগে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধিতে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছিলো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি।

তারা বলেছিলো দেশটিতে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট।

বাংলাদেশে ৬ই জানুয়ারি প্রথম ইউকে বা যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এবং মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভ্যারিয়েন্টটি বাংলাদেশে বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দেখা যায় যে, অন্য যে সব ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে বাংলাদেশে, তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টটি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৮৩৩ জনের।

আর কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন এখন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২ জন ।

দেশটিতে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরুর পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার গত ৫ই এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ কিংবা বিভিন্ন মাত্রার লকডাউন দিয়েছে যা আগামী ১৬ই মে পর্যন্ত বহাল আছে।

যদিও এর মধ্যে দোকানপাট, শপিং মল, শহরের মধ্যে যানবাহন খুলে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য