পলাশবাড়ী হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত

পলাশবাড়ী হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত

রংপুর বিভাগ

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পলাশবাড়ী সরকারি ডিগ্রী কলেজের অদম্য মেধাবী হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তান গোবিন্দ দাস অর্থাভাবে মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভর্তি ফিসহ ভবিষ্যৎ পড়ালেখা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন জেলে পরিবারটি। গোবিন্দ’র ইচ্ছা সে একজন চিকিৎসক হবেন। প্রত্যাশা পূরণে সুযোগ পেয়েও আর্থিক দৈন্যদশায় প্রত্যাশা পূরণ হবে কি-না এ নিয়ে পরিবারটি নানা সংশয়ে ভুগছেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পান গোবিন্দ দাস। শিশু বয়স থেকেই নানা অভাব-অনটন আর টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে গোবিন্দ’র বেড়ে উঠা।

সাদুল্লাপুরের রূপনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী এবং মাদারহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় গোবিন্দ। অর্থাভাবে একসময় লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পড়ে। এলাকার দানশীলদের সহযোগীতায় সে পলাশবাড়ী সরকারী কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এইচএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

মেধাক্রম তালিকায় সে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছেনা গোবিন্দ। ছেলের এমন সফলতায় জেলে সম্প্রদায়ের বাবা কমল চন্দ্র ও গৃহিণী মা সুধারানী দম্পতি ও ছোট দু’ভাই-বোনসহ জেলেপাড়ার সবাই বেজায় খুশি। যারা এতদিন বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছিলেন গোবিন্দর সফলতায় তারাও বেজায় খুশি। পরিবারটি উচ্ছ্বসিত হলেও চোখ-মুখ থেকে হতাশার ছাপ যেন পিছু ছাড়ছে না। চিকিৎসক হয়ে সে দেশ এবং দশের সেবা করতে চান। বাবার পরিশ্রম-মায়ের যতœ আর শিক্ষকদের সহযোগিতা তার লেখাপড়ার সাহস যুগিয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে যতসামান্য বসতি। মা-বাবা ও তিন ভাই-বোনসহ ৫ সদস্যের পরিবার। খড়ের ছাউনির মাটির ঘরে তাদের বসবাস। েেজলে পরিবার গুলোর সোনালী অতীতের সেই সুদিন আর নেই। নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবাসহ জলাশয় গুলো আর নেই। ভরাট হয়ে গেছে সব। মাছ ধরে বাজারে বিক্রির তেমন দিন হারিয়ে গেছে।

গোবিন্দ’র বাবা কমল চন্দ্র দাস আদি পেশা ছেড়ে দুর-দুরান্তের বিভিন্ন হাট-মোকাম থেকে মাছ কিনে তাদের বাড়ী এলাকার বাজারে বিক্রি করে যাই উপার্জন করেন তা দিয়ে কোন রকমে দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের সংস্থান করাই দুরূহ। এর উপর পরিবারের ভরন-পোষণসহ ছেলে মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে নেয়া যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে। যেদিন মাছ কেনা-বেচা সম্ভব হয় না সেদিন তাদের কোনরকমে দিন অতিবাহিত করতে হয়। কষ্ট করে হলেও পারিবারিক অনুশোচনা থেকেই ছেলে-মেয়ের ব্যয়বহুল লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন বলে জানান বাবা কমল চন্দ্র। চলমান দুর্মূল্যের বাজারে সাধ থাকলেও যেন সামর্থ্য কুলিয়ে উঠছেনা। ছেলের ভর্তি চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পরিবারটি। তবে স্থানীয়ভাবে সহানুভূতিশীল অনেকেই অনেকটা সাহস যুগিয়েছেন।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রূপনাথপুর গ্রামের মেধাবী গোবিন্দ প্রায় ১০/১২কি.মি. দূর থেকে খেয়ে না খেয়ে কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো বাইসাইকেল হাঁকিয়ে কষ্ট করে পলাশবাড়ী কলেজে লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন। বাবা-মাযের স্বপ্ন ছেলে আমাদের ডাক্তার হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় কি-না এ চিন্তা যেন তাদের মাথা থেকে নামছেনা। ভর্তি ফিসহ আগামী ৫ বছর পড়াশুনার ব্যয় মেটাবেন কি-করে।

গোবিন্দ’র ডাক্তারী পড়া নিশ্চিত করতে পরিবারটি এলাকার এমপি, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, জেলা-উপ জেলা প্রশাসন ছাড়াও সমাজের সর্বস্তরের দানশীল বিত্তশালী মানবিক মানুষদের নিকট আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন (সহায়তা পাঠাবার ঠিকানা: মোবাইল-গোবিন্দ বিকাশ:০১৮৬৭-৮৯১৪০২)।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য