রংপুর মিঠাপুকুর ২ নারীসহ অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্য গ্রেফতার

রংপুর মিঠাপুকুর ২ নারীসহ অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্য গ্রেফতার

রংপুর বিভাগ

রংপুরের মিঠাপুকুরে দুই নারীসহ অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার ভাংনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এসময় চার্জার রিকশা, ব্যাটাচিালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসহ নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।রংপুর জেলা পুলিশের মিঠাপুকুর-পীরগঞ্জ (ডি) সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুরজ্জামান জানান, যাত্রীবেশে অটো ভাড়া নিয়ে কৌশলে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটো চুরির অভিযোগ এনে গত ১২ মার্চ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পদ্মহার গ্রামের অটোচালক আবদুর রাজ্জাক (৪০) মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ৮ মার্চ বেলা ১১টার দিকে তার অটোরিকশা নিয়ে চতরা বাজারে যান এবং যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় ৪ জন যাত্রী এসে দিনাজপুর যাবে বলে তার অটো ভাড়া নেয়। পরে সেখান থেকে রওনা দিয়ে পথে তারা নবাবগঞ্জ বাজারে গিয়ে একটা হোটেলে দুপুরের খাবার খান। সেখান থেকে ভেন্ডাবাড়ী এসে তারা সবাই মিলে জুস খান এবং কৌশলে তাকে জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মিঠাপুকুর থানাধীন রানীপুকুর এলাকায় ফেলে দিয়ে তার অটো নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান আরও জানান, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কিন্তু কোনো ক্লু বের করতে পারছিলো না। তবে হাল ছাড়েনি। এরইমধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় মিঠাপুকুরের ভাংনী বাজার এলাকা থেকে খবর আসে যে, জুস খাইয়ে অটো ছিনতায়ের চেষ্টাকালে দুই নারীকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

খবর পেয়েই মিঠাপুকুর থানা পুলিশ বিলম্ব না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং দুইজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন, পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার কিসমত শ্রীনগর গ্রামের রশিদ বেপারীর মেয়ে সাথী আক্তার সুমাইয়া (১৮) এবং
বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার শাকবুনিয়া গ্রামের স্বপন জমারদারের মেয়ে সাথী আক্তার সুমি (২০)। তাদের গ্রেফতারের পরপরই বেরিয়ে আসে অটোরিকশা চুরির চাঞ্চল্যকর রহস্য। গত দেড় মাস যাবত পুলিশ যাদের খুঁজছিল এরা হচ্ছেন সেই গ্রুপেরই সদস্য। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে দলের মূলহাতা নুর আলম ওরফে তারেক ওরফে সাগর ওরফে রানাকে (৩৮) রংপুর শহরের সুলতানের মোড় এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নুর আলম মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের কিশামত জালাল গ্রামের আবদুল ওহাবের ছেলে।

পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যমতে তাদের হেফাজত হতে একটি চার্জার রিকশা দু’টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, সাতটি চোরাই মোবাইল ফোন, ৫০ হাজার টাকা, চোরাই কাজে ব্যবহৃত চারটি রেঞ্জ, একটি পাইপ রেঞ্জ, ও দু’টি স্টার রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়।

কামরুরজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের এই গ্রুপের মাস্টার মাইন্ড হচ্ছেন নুর আলম। তারা প্রথমে যাত্রী বেশে চার্জার রিকশা, অটোরিকশা বা মোটর সাইকেল ভাড়া করেন। তারপর চালকের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী করে তাকে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান।

এরপর চালক অচেতন হয়ে গেলে সুবিধামত জায়গায় তাকে ফেলে দিয়ে চার্জাররিকশা, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মোবাইল, টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চলে যায়। এরপর ওই জিনিসপত্র তারা হাসানুজ্জামান ওরফে হানিফ ওরফে কালু (২৮) নামে এক যুবকের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর হানিফ সেগুলোর রং পরিবর্তন করে বিক্রি করতেন এবং তার গ্রুপের সদস্যদের পাওনা দিয়ে দিতেন। তারা প্রায় ৪ মাস ধরে এ পর্যন্ত ১৫/১৬ টির মতো এমন কাজ করেছেন বলে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য