এক যুগ ধরে বিকল এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ

এক যুগ ধরে বিকল এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার মানুষের একমাত্র চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই উপজেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস।

৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্যাথলজি বিভাগ চালু থাকলেও প্রায় ১২ বছর ধরে এক্সÑরে মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। রোগীদের এক্সÑরে করার জন্য বাইরে ডায়গনিষ্ট সেন্টারে যেতে হয়। সঙ্গে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও নষ্ট। চিকিৎসকগণ থেকে রোগীরা চিকিৎসা সেবা পেলেও কাংখিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

দিনাজপুরের ১৩ টি উপজেলার মধ্যে অন্যতম একটি উপজেলা বোচাগঞ্জ উপজেলা। এই উপজেলায় রয়েছে ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান সেতাবগঞ্জ চিনিকল। এছাড়া হাসকিং মিল সহ অসংখ্যক অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে।

ছয় ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা গঠিত। ২২৪.৮১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলা জেলা শহর থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সএ সরকারি দুইটি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি এ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে পড়ে আছে। একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে জরুরি রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে কোন মতে। এতে করে জরুরি রোগীদের এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চরম দূভোর্গে পড়তে হয়। সার্জারি বিশেষজ্ঞ, গাইনি বিশেষজ্ঞ ও আ্যানেস্থেটিস্ট না থাকায় অপারেশন কক্ষ বন্ধ রয়েছে ।

করোনা কালেও হাসপাতালের সেবা নিয়েও রোগীরা বেশ সন্তুষ্ট। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ০৯ জন চিকিৎসক ও ১ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ২৩ জন সেবিকা নিয়ে রোগীদের নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় কমবেশি ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী সেবা নিতে আসে। প্রতিদিন জরুরি বিভাগে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী সেবা নিচ্ছে। উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ২২ টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৫টি রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র থেকে জানা যায়, এক্স-রে মেশিনটি ২০০৩ সালে স্থাপন করা হয়েছিল। কিছুদিন চললেও প্রায় ১২ বছর ধরে এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। নেই রেডিওলজিও (এক্স-রে টেকনিশিয়ান)। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

বোচাগঞ্জবাসীর দাবী অতিদ্রুত সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও মেশিনারীজ সামগ্রী প্রদান করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।

বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল বাসার মো. সায়েদুজ্জামান বলেন, হাসপাতের এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য