দিনাপুরের ঘোড়াঘাটে সোনালী রঙে রাঙিয়েছে মাঠ

দিনাজপুর

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ দিনাপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় বোরো ধানের সোনালী রঙ্গে রাঙ্গিয়েছে ফসলের মাঠ। খুশির আনন্দে হাসছে কৃষক। শস্য ভান্ডারে খ্যাত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে যতদূর দু’চোখ যায় শুধু ধান আর ধান।

দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠকে মাঠ বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাষ করা বোরো ধান। আবওহায়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছে বোরো ধান চাষীরা।

একই সময় করোনা ভাইরাসের কারণে দর পতনের আশংকা করছে চাষীরা। লকডাউনের করণে শ্রমিক সংকটের কারণও হতে পারে বলে মনে করছে চাষীরা।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে মাঠ থেকে পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো দমে ধান কাটা শুরু হবে।

সরজমিনে গিয়ে রামপুর টুবঘুরিয়া মাঠে ধান কাটার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা ৫০ শতকের প্রতি বিঘা জমিরধান কাটাসহ মাঠ থেকে চাষীর বাড়ি নিয়ে গিয়ে মাড়াই করা পর্যন্ত নিচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। তবে তারা আশা করছে ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি ভাল হয়েছে।

অপরদিকে বোরো চাষীরা আশা করছে বাজার দর পতনের ৩-৪ দিন আগেও প্রতি মণ ধান ১ হাজার থেকে ১ হাজার পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ ৩-৪ দিনের ব্যবধানে দরপতন হয়ে প্রতি মণ ধান এখন বাজারে ৮’শ থেকে সাড়ে ৮’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষীরা আশংকা করছে বাজারে পর্যাপ্ত ধান উঠলে আরো নিচে নামবে বাজার দর।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৯ হাজার ২’শ তিরিশ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এবং সেক্ষেত্রে ৯ হাজার ২’শ তিরিশ হেক্টর জমিতেই বোরো চাষ হয়েছে।

যার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে আশা করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এখলাস হোসেন সরকার জানান, এবার ৯ হাজার ২’শ তিরিশ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বোরো রোপন করেছে এবং ২ হাজার ৩’শ কৃষককে বিনামূল্যে বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

সার্বক্ষণিক কৃষি অফিসের কর্মকর্তাগণ ও মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবার ঘোড়াঘাট উপজেলায় বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি কর্মকর্তার সাথে কয়েকদিনের ব্যবধানে ধানের বাজার কমে যাওয়ায় কৃষকরা হতাশ এমন প্রশ্নে তিনি জানান, যেহেতু সরকারি ভাবে ধান চাল ক্রয়ের দর নির্ধারণ করা হয়নি । সরকারি ভাবে দর নির্ধারণ করা হলে এবং ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে ধানের বাজারে কৃষকরা সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য