দিনাজপুরে শুধু পাকচং ঘাস চাষ করে জীবিকা নির্বাহ

দিনাজপুরে শুধু পাকচং ঘাস চাষ করে জীবিকা নির্বাহ

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ঘাসটি নাম পাকচং আরেক নাম নেপিয়ার আবার লাল পাকচং জাতের ঘাস হয়। গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া গৃহপালিত পশুর উৎকৃষ্ট খাবার। বিশেষ করে গরু ও ছাগলের বেশী দুধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। মাঝে মাঝে ভ্যানে ঘাস বিক্রয় করতে দেখা যায়। একবার চারা রোপন করলে ৫ বছর যাবত সময়ের ক্রমনুসারে চারা গাছ হতে থাকে। অর্থাৎ ঘাস বড় হলে কাটার পর আপনি আপনি ঘাসের মুরা থেকে চারা উঠতে থাকে।

সদর উপজেলায় গোপালগঞ্জ এলাকার চাষী মিলন বলেন, প্রায় ১১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পাকচং ঘাস চাষ করেছি। জমিতে ইউরিয়া, পটাশ, ড্যাব ও সালফার সার ব্যবহার করতে হয়। জমিতে প্রচুর পরিমানে পানি লাগে। ফলন ভাল হয়েছে। জমিতে চারা লাগানের পর প্রায় ৫০ দিন তেকে ৬০ দিনের মধ্যে ঘাস কাটার উপযোগী হয়। পূর্নাঙ্গ ঘাসটি ৫ ফুট থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বছরে ৫ থেকে ৬ বার ঘাস চাষ করা যায়। প্রতিবারে বিঘায় ঘাস উৎপাদন করতে ১০ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত খরচ হয়। প্রতি আটি ঘাস বিক্রয় হয় ৭-৮ টাকা দরে। কিন্তু শীত মৌসুমে ঘাসের দাম বেশী থাকে। আর প্রতি বৎসর এক বিঘা জমি লিজ নিতে ১৫ হাজার হতে ১৬ হাজার টাকা জমির মালিককে দিতে হয়।

আরেকচাষী মশিউর রহমান জানান এই পেশায় নিযুক্ত আছেন ১৫ বছর যাবত। খালাতো ভাই ও চাচাতো ভাই সবাই এই পেশায় রয়েছেন। ৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে ঘাস চাষ করতে ৫৪ হাজার টাকা প্রতি বছরে জমির মালিককে দিতে হয়। পাকচং ঘাস প্রচুর পানি এবং সার ব্যবহার করতে হয়। ৬-৭টি ঘাস দিয়ে আটি তৈরী করে বিক্রয়ের উপযোগী হয়। এক বিঘা জমিতে প্রতি বারে ঘাস বিক্রয় করলে ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় হয়। বাসা চিরিরবন্দর উপজেলায় হাটখোলা গ্রামে। শুধু সদর উপজেলায় নয় চিরিরবন্দর উপজেলাতে নিজ এলাকায় আরও ৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পাকচং ঘাস চাষ করছেন। ঘাসের চারাও বিক্রয় করেন প্রতি বসÍাতে ৬০০ টাকা দরে। সেটি ঘাসের মুরাগুলো। আরও জানান চিরিরবন্দর উপজেলাতে এই নেপিয়ার ঘাসের চাষাবাদ বেশী রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, দিন দিন জমির লিজের টাকার পরিমান বেড়ে যাওয়াতে আগের চেয়ে লাভ কম হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে উপ-সহকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ পাই নাই। পরামর্শ পেলে উন্নত জাত চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন হবে।

এই বিষয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, অনেক কৃষক ভাইরা পাকচং ঘাস চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এই ঘাসে রয়েছে প্রায় ১৪% প্রোটিন। স্বাস্থ্য সম্মত উৎকৃষ্ট ঘাস যা গবাদি পশুর ক্ষেত্রে অনেক উপকারী। পশুর খাদ্যে চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আরও ব্যাপকভাবে চাষ করতে পারলে খামারকারীদের পশু পালন চাষে উৎসাহ যোগাবে। আর জানান, সদর উপজেলাতে প্রায় ৩০ একর জমিতে পাকচং ঘাস চাষ হচ্ছে। চিরিরবন্দর উপজেলাতে এই ঘাসের চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে পাকচং ঘাস চাষে কৃষকদের বিনামূল্যে ঘাসের চারা সরবরাহ করা হয়। শুধু তাই নয় পাকচং ঘাস চাষীদের চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য