দেশের কোথাও নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না এলপিজি

দেশের কোথাও নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না এলপিজি

জাতীয়

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু দেশের কোথাও নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। বরং আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। বাজারে বিইআরসির মূল্য ঘোষণার কোন প্রভাবই পড়েনি। বিইআরসি গত ১২ এপ্রিল সারাদেশের এলপিজির দর নির্ধারণ করে আদেশ জারি করে। ওই আদেশ সেদিন অর্থাৎ ১২ তারিখ থেকেই কার্যকরেরও ঘোষণা দেয়া হয়। আর আদেশে বলা হয়, কমিশন যে দাম ঘোষণা করেছে তা ভোক্তার সুবিধার্থে দোকানে দোকানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘোষিত মূল্যহার টাঙানো তো দূরের কথা, বেঁধে দেয়া ওই দামে দেশের কোথাও এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। বিইআরসি, ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং এলপিজি খাতভুক্ত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণের আদেশ ছিল বলেই বিইআরসি তা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন ওই দাম কেউ মানলো কি মানলো তা দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নয়। কনজুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এলপিজির দাম নির্ধারণের পরও দেশের কোথাও বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না অভিযোগ করে বিইআরসিকে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়- লাইসেন্সি আদেশ না মানলে কমিশন আইনের ৪২ এবং ৪৩ ধারা মতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। ক্যাব চিঠিতে ৪২ এবং ৪৩ ধারা মনে করিয়ে দিয়ে বলছে লাইসেন্সিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

সূত্র জানায়, বিইআরসিকে ক্যাব যে চিঠি দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে- দেশের কোথাও বিইআরসির বেঁধে দেয়া দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। ফলে এটি শুধু বিইআরসি আইনের লঙ্ঘন নয় বরং উচ্চ আদালতের নির্দেশ প্রতিপালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি। বিইআরসি উচ্চ আদালতের নির্দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে। ফলে বিআইরসির আদেশ অমান্য করার অর্থই হচ্ছে উচ্চ আদালতের আদেশ না মানা।

এদিকে এ বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আজম জে চৌধুরী জানান, কমিশন যে দাম নির্ধারণ করেছে ওই দামের মধ্যে কিছু জিনিস ঠিক হয়নি। লোয়াবের পক্ষ থেকে সেটা নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে বসা যাচ্ছে না। আশা করা যায় লকডাউনের পর এই নিয়ে আলোচনা করা যাবে। লোয়াব আদালতে যেতে চায় না, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মকবুল-ই-এলাহী জানান, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট করে অভিযোগ করে তাহলে বিইআরসি তার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সবার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই দাম কার্যকর করা কঠিন হবে। রিটেইলারকে তার দোকানে দামের তালিকা প্রদর্শন করার আদেশ দেয়া হয়েছে। এখন তারা যদি ওই দাম প্রদর্শন না করে তাহলে বিইআরসির পক্ষে দোকানে দোকানে গিয়ে তা মনিটরিং করা কঠিন। সেক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতনতা খুব জরুরি। আর সবাইকে নিয়ে কাজ করা চেষ্টা বিইআরসির অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য