দিনাজপুরে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করোনা পরিস্থিতিতে হচ্ছে না রপ্তানিও

দিনাজপুরে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করোনা পরিস্থিতিতে হচ্ছে না রপ্তানিও

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বৈরী আবহাওয়ায় এবার দিনাজপুরে লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লিচুর ফলন এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসতে পারে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে করোনা মহামারির কারণে এবার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও দিনাজপুর থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে লিচু রপ্তানি হচ্ছে না। দিনাজপুরের বিরল, বীরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাগান ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছে লিচু নেই। লিচুর গুটির পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে নতুন পাতা।

বাগান মালিকরা বলছেন, এবার লিচুর ফলন গত বছরের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে দিনাজপুরের লিচুর বেশ খ্যাতি রয়েছে। লিচু আবাদ লাভভান হওয়ায় এ অঞ্চলে দিন দিন লিচু বাগানের পরিধিও বাড়ছে।

তিনি বলেন, দিনাজপুরের লিচু জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। আর মান ভালো থাকায় এবার শুরুতেই ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে লিচু রপ্তানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে লক্ষ্যে কয়েকটি দেশে যোগাযোগও হয়। কিন্তু বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী মৌসুমে আবার রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্য বছরের তুলনায় এবার লিচুর ফলন বিপর্যয়ের কথাও স্বীকার করেন তিনি।

সম্প্রতি লিচুর গ্রাম হিসাবে পরিচিত বিরল উপজেলার মাধববাটীতে গিয়ে দেখা হয় আগাম বাগান কেনা লিচু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন লিচুগাছের দিকে। বছরজুড়ে বাগানের পরিচর্যা করার পরও গাছে তেমন মুকুল নেই, আছে শুধু নতুন পাতা। তার গোটা বাগানেরই এই অবস্থা।

আনারুল জানান, তিন বছরের জন্য আগাম ৫টি বাগান কিনেছেন তিনি। এসব বাগানে লিচুগাছ আছে একশর বেশি। অধিকাংশ গাছই বোম্বাই জাতের। গত বছর করোনা পরিস্থিতিতেও এই পাঁচ বাগান থেকে তিনি ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেন। এবার ৫ লাখ টাকা পাবেন কি না সন্দেহ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য