PARBATIPUR PIC  18.05.14একরামুল হক বেলাল,পার্বতীপুরঃ পার্বতীপুর উপজেলার পশ্চিম সুখদেবপুর গ্রামে মাসুমা আকতার কেয়া (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যাকান্ডের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামী গ্রেফতার করেনি। নিহতের পিতা ও গ্রাম বাসীর অভিযোগ পুলিশ রহস্যজনক কারনে আসামী ধরছেনা।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সুখদেবপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের কন্যা মাসুমা আকতার কেয়ার পিতা মাজেদুর রহমান জানান, তার মেয়ে সাথে একই গ্রামের অবঃ পুলিশ সদস্য রেজানুলের পুত্র পলাশ মাহামুদ(২৫) সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে ছিল। গত ৪ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার পরে কোন এক সময় মাসুমাকে বিয়ে করার কথা বলে পলাশ গোপনে ডেকে নিয়ে যায়।

পরদিন সকালে বাড়ি থেকে তিনশত গজ দূরের একটি আমবাগানের গাছের ডালে গলায় ওড়না পেচিঁয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। মাজেদুর রহমানের ধারণা পলাশ তার সহযোগি আরাফাত, হাবিবুর ও ইসহাকের সহায়তায় কেয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে। পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে পলাশ মাহামুদ, আরাফাত, হাবিবুর ও ইসহাককে আসামী করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আসামীরা পলাতক রয়েছে। এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাস সরকার বলেন, এলাকার ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম সহ দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের এস আই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ময়না তদন্তের রির্পোট পেয়েছি। মামলা তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না বলে তিনি বলেন।

এদিকে আসামীরা গত ৭ মে বুধবার দিন মামলার স্বাক্ষী মৃত্যু তমিজ উদ্দিনের পুত্র ভ্যান চালক আব্দুস সবুর সরদারকে রাস্তায় মারধর করে জীবন নাশের হুমকি দেয়। পরদিন এ নিয়ে একটি সাধারন ডায়রিও হয়েছে। মামলার বাদী মাসুমা আকতার কেয়ার বাবা মাজেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আসামী না ধরায় আবারও প্রান নাশেরর ঘটনা ঘটতে পারে।

এজাহার নামীয় আসামী পলাশ মাহামুদ এর পিতা রেজানুল হক আবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হওয়ায় পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের কোন তৎপরতা না থাকায় আসামীরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ছে এবং মামলা তুলে নিতে প্রান নাশ সহ বিভিন্ন হুকমী প্রর্দশন করছেন। তার ধারনা আসামী পক্ষ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশের মাধ্যমে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার বাদী সহ এলাকাবাসীর দাবী মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হোক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য