বরই চাষে মাইলফলক ছুঁয়েছেন ঘোড়াঘাটের সাব্বির

বরই চাষে মাইলফলক ছুঁয়েছেন ঘোড়াঘাটের সাব্বির

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কৃষি প্রধান এই বাংলাদেশে নানা জাতের ফলমূল ও সবজি চাষে সফলতার গল্প তৈরি করেছেন হাজারো কৃষক। বাংলাদেশের মাটি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন ফলমূল ও সবজি চাষে প্রতিনিয়ত সফলতা ছিনিয়ে এনেছেন কৃষকেরা। তেমনি ভাবে একাধিক জাতের বরই চাষে সফলতার মাইলফলক ছুঁয়েছেন সাব্বির মিয়া।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সৌখিন কৃষক সাব্বির মিয়া। আধুনিক কৃষিকাজে দীর্ঘদিন থেকেই বেশ আগ্রহ তার। ইউটিউবে দেখে দুগ্ধজাত গরু পালন, ধান এবং ভুট্টা চাষের পাশাপাশি নিজের ৮০ শতাংশ জমিতে পৃথক দুটি জাতের বরই চারা লাগিয়েছেন তিনি।

বেলে দোআঁশ মাটিতে কাশমিরী ও সুন্দরী জাতের প্রায় তিন শতাধিক বরই গাছে মাত্র ৮ মাসে সব গুলো গাছেই দেখা মেলে সুমিষ্ট বরইয়ের। যা বাজারে বিক্রি করে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা লাভবান হয়েছে তিনি। তার এই সফলতা বরই চাষে আগ্রহ জোগাচ্ছে আধুনিক কৃষিতে আগ্রহী চাষীদের।

বরই চাষে মাইলফলক ছুঁয়েছেন ঘোড়াঘাটের সাব্বির

বরই বাগান ঘুরে দেখা যায়, নেট দিয়ে ঘেরা বাগানে সারি সারি গাছে ঝুপড়ে ধরেছে বরই। পাখির হাত থেকে রক্ষা পেতে পুরো বাগানের উপরে দেয়া হয়েছে সূতোর নেট। প্রতিটি গাছে বরই ধরে আছে প্রায় ১ থেকে আড়াই মণ। দুজন শ্রমিক গাছগুলো থেকে পরিপক্ব বরই সংগ্রহ করে ঝুড়িতে করে বাজারজাত করছে।

সফল বরই চাষী সাব্বির মিয়া জানান, প্রতি পিছ ২০ টাকা মূল্যে ৩৫০টি বরই চারা সংগ্রহ করে বাগানে রোপন করেছিলেন সে। রোপন পর থেকে বরই বাজারে বিক্রি পর্যন্ত তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। অপর দিকে প্রায় ৬ লাখ টাকার বরই সে স্থানীয় বাজারে পাইকারী মূল্যে বিক্রি করেছেন।

তিনি আরো জানান, প্রথম অবস্থায় ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে প্রতি মণ বরই বাজারে বিক্রি করেছেন । শেষ মুহুত্বে সর্বনি¤œ ১ হাজার টাকা দরে প্রতি মণ বরই বাজারে বিক্রি করেছে সে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাছ হোসেন সরকার বলেন, ঘোড়াঘাটের মাটি এবং আবহাওয়া বিভিন্ন জাতের বরই চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আমরা কৃষকদেরকে বরই চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। পাশাপাশি যারা বরই চাষে ঝুঁকছে, তাদেরকে নিয়মিত সার্বিক পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য