দিনাজপুর সদর উপজেলায় জমে উঠেছে টমেটোর বাজার

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কৃষি আবহমান বাংলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ঐতিহ্যে ও মূল চালিকাশক্তি। জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে দেশের সর্ব উত্তর পশ্চিমের শস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুর জেলার অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন। সেই দিক থেকে দিনাজপুর জেলাতে ১০১১ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এর তথ্য অনুসারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টর জমিতে ২৭ টন ধরা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে ২৬.৯৮ টন টমেটো উৎপাদন হচ্ছে। অর্থাৎ ২৭হাজার ২শত সাতাত্তর মেট্রিক টন টমেটো দিনাজপুর জেলাতে উৎপাদন হবে।

সদর উপজেলাতে গাবুড়া গোপালপুরহাটে ৩৩ শতকের জায়গায় উপর টমেটোর বাজার জমে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা উৎপাদিত টমেটো খুব সকালে বাজারে নিয়ে আসে। রাস্তায় টমেটোর সাড়ি সাড়ি বহনকারি গাড়ি অপেক্ষায় থাকে। ব্যবসায়ীরা তাদের পছন্দমত টমেটো সংগ্রহ করে। আর টমেটো উৎপাদনের বাজার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে শেষ হবে। সদর উপজেলাতে এই বৎসর ৯৩৩ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শেখপুরা ৪ নং ইউনিয়ন অন্যান্য ইউনিয়নের চাইতে সিংহভাগ টমেটো চাষের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভ’মিকা রাখছে।

বর্তমানে এই ইউনিয়নে ৭২০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষাবাদ হয়েছে। পূর্নভবা নদীর ব্রীজের অপারে বসছে টমেটোর বড় আড়াৎদার বাজার। এই মৌসুমে বাজারটি ১৩ লক্ষ টাকায় ইজারাদার নিয়েছে। হাটটি গোপাপুরহাট (গাবুড়া) নামে শুধু দিনাজপুর জেলা নয় দেশের সমগ্র জেলাতে পরিচিতি রয়েছে। প্রতি নিয়ত এই বাজার থেকে ২৫ -৪০ ট্রাক পন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিবাহিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে এসেছে।

ব্যবসায়ী দেলোয়ার মাতবর বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় ঢাকা থেকে এসেছি। প্রতিদিন ২ ট্রাক পন্য ঢাকায় পাঠাই। প্রতি ট্রাকে ৪৫০ থেকে ৫০০ ক্যারেট টমেটো ভর্তি করা হয়। প্রতি টমেটো ক্যারেটে খরচ পড়ে ১০০ টাকা ঢাকা পর্যন্ত নিয়ে যেতে। গাড়ীভাড়া বেশী হওয়াতে ক্যারেট প্রতি দাম বেড়ে যায়।

আর এক শরিয়তপুর ব্যবসায়ী রিপন বলেন এখানকার বাজার পরিবেশ ভাল। শ্রমিকের কোন অভাব নেই। আমাদের কোন অসুবিধে হচ্ছে না। টমেটোর মান ভাল।

কৃষকরা জানালেন, এক বিঘা জমিতে টমেটো উৎপাদন করতে ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘাতে ২৫০-৩০০ মন টমেটো উৎপাািদত হয়। এক মন টমেটো বিক্রয়ের উপযোগী করতে ৩০০-৩৫০ টাকা খরচ হয়। বর্তমান সময়ে বাজারে টমেটোর গুনাগুনের উপর ভেদে ৪৫০-৫৫০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে।

টমেটোর বাজারে সরজমিনে দেখাগেছে চাহিদার তুলনায় উৎপাদিত টমেটো বেশী পরিমানে আমদানী হওয়ায় কৃষকরা ন্যায দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কখনও বাজার উচ্চ গতিতে আবার কখনও বাজার নি¤œ গতিতে চলছে। কৃষকরা বলছেন, উৎপাদিত টমেটো হিমাগারে রাখতে পারলে বাজারের এ রকম প্রভাব কমবে। বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখা যাবে। চাাষীরা নায্য দাম পাবে এবং সেই সাথে টমেটো উৎপাদনে উৎসাহিত হবে চাষীরা।

৪নং শেখপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং টমেটো বাজারের ইজারাদার মমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ টন টমেটো দেশের বিভিন্ন জেলাতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এখানকার টমেটো বাজারে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের নানা স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা আসছে। লকডাউনের জন্য আরও ব্যবসায়ীরা আসতে উৎসাহ পাচ্ছে না। টমেটোর বাজার বিস্তৃতির ক্ষেত্রে জায়গার স্বল্পতা। বাজার সম্প্রসারিত করার বিষয়ে বলেন, উন্নত হিমাগার থাকলে বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকবে, কৃষকরা নায্য দাম পাবে এবং বাজার সম্প্রসারিত হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য