সৈয়দপুরে আলাদতে বিচারাধীন জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ, আটক ২

রংপুর বিভাগ

মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্রয়কৃত জমি বেদখল করা সংক্রান্ত অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকাবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করছে দখলদার প্রভাবশালীরা। বৈধভাবে কেনা জমিতেও যেতে পারছেন না প্রকৃত মালিক পক্ষ। জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্যদের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছেননা। বরং উল্টো প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলেছে দখলবাজরা। এতে চরম অসহায়ত্ব ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিয়ে কাটছে তাদের দিন। এমতাবস্থায় ১৮ এপ্রিল দুপুরে ২ জনকে আটক করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ।

এমনই জবরদখলমূলক বেআইনি কাজ সংঘটিত হয়েছে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কামারপুকুর বাজারে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের সাথে রাজা ফিলিং স্টেশন ও সাবেক সাজেদা কোল্ড স্টোরেজ এর পাশে। এনিয়ে এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এলাকাবাসীর মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সৈয়দপুর শহরের হাওয়ালদারপাড়ার মোঃ শফি উল্লাহ’র ছেলে মোঃ জাহিদ ফয়সাল অভিযোগ করে জানান, তিনি ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি জনৈক মোছাঃ তাবাসসুম জাহানের কাছ থেকে ১২৭ নং কবলা দলিল মূলে কামারপুকুর মৌজাধীন ২৮ শতক জমি ক্রয় করেন। যার খতিয়ান নং এস.এ ১০, বিএস ৭২৬ ও ১৯৪। দাগ নং এসএ ১৯৮/১২৩২, বিএস ৪৬৬ ও ৪৬৮ (১৭.৫০+০৩ =২০.৫০ শতক) এবং খতিয়ান নং এসএ ২৪৪, বিএস ১৯৪, খারিজ ৬২৭/৪, ২৪৩৯(নতুন) দাগ নং এসএ ২০২ বিএস ৪৬৯ ও ৪৭০ (৫.৫০+০২=৭.৫০ শতক)।

এর আগে তিনি ২০১৬ সলের ১৭ নভেম্বর উক্ত জমির পাশেই একই মৌজায় আরও ৫০.৪৩ শতক জমি ৪৬২৬ কবলা দলিল মূলে কিনেছেন। যার খতিয়ান নং এসএ (১০) খারিজ ৮৫৭ (পুরাতন) ও খারিজ ১২২৪ (নতুন), এসএ দাগ নং ১৯৮, ১৯৮/১২৩২, ৫০৬, ৫০৪, ৫০৬/১২৬৯ বিএস দাগ নং ৪৬৬, ৪৬৫, ৩৭৪, ৩৬৮, ৩৭৩। এই জমির মধ্য হতে ২৮ শতক অন্যত্র বিক্রি করেছেন। বাকি জমিতে গাছ লাগিয়ে দখলে রেখেছেন।
উল্লেখিত জমিগুলো নিজ নামে বিত্ব খারিজ করে নেন। খারিজ খতিয়ান নং ২৪৩৯ এবং খারিজ কেস নং ৩৭১১(1X-1)/১৯-২০, তারিখ -২১/০৭/২০২০ ইং।

এরই মধ্যে গত ২৭ মার্চ ২০২১ ইং শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রভাবশালী দখলবাজ, দূস্কৃতিকারী, দাঙ্গাবাজ, মামলাবাজ চক্রটিসহ ১০/১২ জন মিস্ত্রি নিয়ে প্রতিপক্ষ গোয়ালপাড়ার মৃত আসাফাক আহমেদের স্ত্রী মোছাঃ নাসরিন পারভীন (৪৫), তার ভাই বাঁশবাড়ী এলাকার মৃত হাজী জাকির আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ (৪৮) ও মোঃ সাকিল আহমেদ (৪০), বাঁশবাড়ী টালি মসজিদ এলাকার মোঃ নওশাদ (১ নং স্টার গুল) উল্লেখিত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে।

খবর পেয়ে জাহিদ ফয়সাল উপস্থিত হয়ে নির্মাণ কাজ করা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তানভীর ও সাকিল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মারধরের জন্য উদ্ব্যত হয়। এসময় তাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ চাইলে তারা কাগজপত্র না দেখিয়ে উল্টো হুমকি প্রদান করেন। তারা বলেন নালিশী বিত্ব শীঘ্রই জোরপূর্বক বেদখল করে নিবে, গাছপালা কেটে নিবে এবং জখম করে রক্তপাত ঘটিয়ে সাইজ করবে।

এমতাবস্থায় উক্ত জমি বেদখল করে বাড়ী ঘর কিংবা কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে কিংবা ভোগদখলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরের দিন ২৮ মার্চ আদালতে উল্লেখিতদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার দীর্ঘদিন পার হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিপক্ষরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। অথচ আমরা সেখানে যেতেই পারছিনা। প্রভাবশালী হওয়ায় তারা যেমন অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে জোরপূর্বক বেদখলকৃত জমিতে অবস্থান করছেন।

এদিকে ১৮ এপ্রিল শনিবার দুপুরে শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক রোড থেকে আসামী তানভীর ও সাকিল কে আটক করে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল হাসনাত খান বলেন, আদালত অবমাননা করে অমীমাংসিত জমিতে নির্মাণ কাজ চালানোর কারনে তাদেরকে আটক করে নীলফামারী জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য