রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদের কর্মবিরতি

রংপুর বিভাগ

দু’দিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করছে ইন্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদ। শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে ওই শিশুর অভিভাবক ইন্টার্ণ চিকিৎসকের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় শনিবার বিকেল থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করে তারা। এদিকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।

ইন্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ১১টার দিকে পেডিয়াট্রিক বিভাগে লালমনিরহাটের এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় ওই শিশুর অভিভাবকরা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে ইন্টার্ণ চিকিৎসক ডাঃ রহমত ইমনকে স্লাইরেঞ্জ দিয়ে আঘাত করে। খবর পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ইন্টার্ণ চিকিৎসকসহ আনসারের সদস্যরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ইন্টার্ণকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই বিভাগে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ণরা। এ বিষয়টি নিয়ে ইর্ন্টাণ চিকিৎসকরা শনিবার সকালে হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে হাসপাতাল পরিচালকের সাথে সভা করে। সেখানে সন্তোষজনক আলোচনা না হওয়ায় শনিবার বিকেল থেকে ইন্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদ হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহনেওয়াজ সরকার মিলন বলেন, পেডিয়াট্রিক বিভাগ ও সিসিইউতে প্রতিদিন অনেক রোগী ভর্তি হয়। এ বিভাগ দুটিতে প্রায় রোগী মারা যায় এবং রোগীর অভিভাবক দ্বারা আমাদের ইন্টার্ণরা হামলার শিকার হন। গত ৭-৮ দিন আগে এক রোগীর অভিভাবক আমাদের নারী ইন্টার্ণকে লাঞ্ছিত করে। এ ছাড়া বিকেলের পর থেকে পেডিয়াট্রিক বিভাগে আনসার থাকে না। একজন রোগীর সাথে ৮-১০ জন রোগীর স্বজনরা এসে ওয়ার্ডে ভিড় করে। এতে করে করোনার সংক্রমণ বাড়ার শংঙ্কার সাথে সাথে ইন্টার্ণদের উপর হামলার ঘটনার পরিস্থিতি তৈরী হয়। তাই ইন্টার্ণের উপর হামলার ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা, পেডিয়াট্রিক ও সিসিইউ বিভাগে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একটি নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীর স্বজন তাদের রোগীর সাথে দেখা করতে পারবেন এমন সময় নির্ধারণ করার দাবী জানাচ্ছি। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রেজাউল করিম সমকালকে জানান, ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের দাবী নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে শিশু ওয়ার্ডে নিরাপত্তা জোরদার করেছি। সেখানে একজন আনসার নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডে রোগীর অভিভাবকদের প্রবেশের ব্যাপারে গেট পাসের ব্যবস্থা নিয়ে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত ইন্টার্ণরা কাজে ফিরবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য