ভারতে অভিনেত্রী শতাব্দীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যখন উত্তাপ ছড়াচ্ছে গোটা ভারতে, ঠিক সেই সময় সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিলো ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়, সাবেক তৃণমূল সাংসদ ও বর্তমান তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের সহকারী দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের তিন কোটি রুপির বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

২০১৩ সালে সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়। ১৪ হাজার কোটি রুপির এই কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় শাসকদল তৃণমূলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও নেতার। কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে ১৮ পাতার একটি চিঠি লিখে যান। এতে তিনি বলেন, তার বিরাট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডোবানোর পেছনে ছিল ২২ জন। ওই ২২ ব্যক্তিকে যেন দোষী করে তার আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপরই গ্রেফতার হন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ, সাংবাদিক-সাংসদ সৃঞ্জয় বসু, রাজ্যের মন্ত্রী মদন মিত্রসহ বেশ কজন। জেরা করা হয় শতাব্দী রায়কেও।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, কুণাল ঘোষের ২ কোটি ৬৭ লাখ রুপি, শতাব্দীর ৩০ লাখ রুপি ও দেবযানীর ১৬ লাখ রুপির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

একসময় সারদার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় ৷ তার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৷ গত বছর একইভাবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শতাব্দী রায়। তারপরও কেন তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন একসময়ের নন্দিত এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগেই আমি ওই টাকা ফেরত দিয়েছি। তখন তারা এটিকে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে দেখাতে চেয়েছিল, তবে আমি রাজি হইনি। আমি স্বেচ্ছায় যখন সে টাকা ফেরত দিচ্ছি, তখন এর প্রয়োজন আছে কিনা সে প্রশ্নও করেছিলাম। এখন এটাকে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তা দুর্ভাগ্যজনক। মিডিয়া জানার পরই আমি অ্যাটাচমেন্টের ব্যাপারে শুনছি। তাদের কাছ থেকে কোনও ইঙ্গিত এখনও পাইনি। নির্বাচনের সময়ে এ অ্যাটাচমেন্ট অর্ডারটি মিডিয়ায় ঘুরপাক খাওয়ার বিষয়টিও বিস্ময়ের।’

মাত্র কিছুদিন আগে তৃণমূল নেতা কুণাল ও প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। সে সময় সারদার থেকে নেওয়া টাকা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ফিরিয়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ৷ প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ ভারতীয় টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র৷ কুণাল ঘোষের দাবি, সারদার বেতনভূক্ত কর্মচারি থাকাকালে তিনি বেতন ও বিজ্ঞাপন বাবদ যা নিয়েছিলেন, তার সবটাই ফিরিয়ে দিয়েছেন।

এ তৃণমূল নেতা বলেন, ‘সারদার কাছ থেকে বেতন ও বিজ্ঞাপন বাবদ যে টাকা আমি নিয়েছি তা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া আমি স্বেচ্ছায় শুরু করেছিলাম। ২০১৩ সাল থেকে টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করি আমি। যে পরিমাণ টাকা আমি ফেরত দিয়েছি তা আইনগতভাবেই গ্রহণ করেছে তারা।’

ইডি-এর নতুন অ্যাটাচমেন্ট অর্ডারের ব্যাপারে কিছু জানা নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য