Ershad Picরাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে রাডার ক্রয়ে দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে মামলার আত্মপক্ষ শুনানিতে রাডার ক্রয়ে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন এরশাদ।

মামলার অপর দুই আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সুলতান মাহমুদও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ মামলার আরেক আসামি একেএম মুসা শুরু থেকেই পলাতক আছেন।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রশিদ ২৯ মে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে করে আদালতে আসেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এরপরই আদালতে মামলাটি ডাকা হয়। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের দেওয়া সাক্ষ্য সংক্ষিপ্ত আকারে পড়ে শোনান।

প্রথমে আদালত এরশাদকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি দোষী না নির্দোষ। জবাবে এরশাদ বলেন ‘আমি নির্দোষ, আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই।’ এরপর তিনি একটি লিখিত বক্তব্য আদালতে দাখিল করেন।

আদালত তাকে জিজ্ঞাসা করেন আপনার বক্তব্যের সমর্থনে কোনো কাগজপত্র দাখিল করবেন কিনা কিংবা সাফাই সাক্ষী দেবেন?

জবাবে কোনো কাগজপত্র কিংবা সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলে আদালতে জানান এরশাদ।

একইভাবে বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং সুলতান মাহমুদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন আদালত।

তারাও নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে কোনো কাগজপত্র ও সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলে আদালতকে জানান।

বিচারক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে আগামী ২৯মে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়েরের পর ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে এর চার্জশিট দাখিল করা হয়।

এরপর ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন বিমান বাহিনী প্রধান সদর উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে বাহিনীর জন্য যুগোপযোগী রাডার কেনার আবেদন করেন।

সাবেক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির নির্মিত অত্যাধুনিক একটি হাই পাওয়ার রাডার ও দুইটি লো লেভেল রাডার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

কিন্তু তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত্যাধুনিক রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কিনেন।

এতে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য