দিনাজপুর সংবাদাতাঃ রেলপথ মন্ত্রী এ্যাড. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত রেলওয়ে লাইন সম্প্রসারন করার। আমরা আশা করছি আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারিত হবে এবং দিনাজপুর থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, পঞ্চগড় থেকে ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেলওয়ের মাধ্যমে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। ইতিমধ্যেই সেই সমীক্ষা কাজ চলছে।

আজ সোমবার বিকেলে দিনাজপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের উচু ও বর্ধিত প্লাটফর্মের শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন
তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী (পশ্চিম) জোনের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের
সচিব সেলিম রেজা, মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

তিনি বলেন, আমরা এই বছরের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রেলওয়েতে নিয়োগ দেয়া হবে। ফলে রেলওয়েতে যে ঘাটতি আছে তা পুরন হবে। পঞ্চগড় থেকে খুলনা ট্রেন চলাচল করবে, এটার ঘোষণা দেয়া লাগবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল ৩ হাজার কিলোমিটার আর সড়কপথ ছিল সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার। আজকে সড়ক পথ বর্ধিত হয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার হয়েছে, আর রেলপথ আরও ২০০ কিলোমিটার কমে হয়েছে ২৮শ’কিলোমিটার। তাহলে রেল কত অবহেলিত।

৭২-৭৩ সালে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল ৬৮ হাজার যেটি এখন কমে দাড়িয়েছে মাত্র ২৫ হাজার। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় শ্রমিক ছিল ১০ হাজার যেটি এখন কমে এসে হয়েছে মাত্র ১৪শ’। রেলওয়েকে পাবলিক করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ভারসাম্যপূণ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছেন। রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যমুনা সেতু পরিকল্পনা করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সেই ডিজাইন পরিবর্তন করে রেলওয়ে চলাচল যুক্ত করেছেন। এখন তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন আরেকটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণের।

তিনি আরও বলেন, মংলা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে মংলা পর্যন্ত রেল চালু হবে। আমাদের পদ্মা
সেতুর উপর দিয়ে আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে রেল চালু হবে। সেদিন পদ্মা সেতু সড়ক পথের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেই দিনও যেন ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত
রেল চালু করা হবে সেই লক্ষ নিয়ে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

রেল আপনাদের সম্পদ এবং রেল ভ্রমন নিরাপদ ও সাশ্রয়ী, রেল আগের চেয়ে ভাল চলছে এটার কৃতিত্ব আপনাদের। আগে রেলের টিকিট কালোবাজারী হতো অভিযোগ পাওয়া যেত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখনও যদি টিকিট কালোবাজারী হয় থাকে তাহলে অবশ্যই তা দুর করার ব্যবস্থা করা হবে। যদি কোন রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী টিকিট কলোবাজারির সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি হুশিয়ারী করেন ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য