বয়সের ভার আর প্যারালাইসিন্সে আক্রান্ত ভোলা চাচা এখনও পত্রিকা বিক্রি করেন

রংপুর বিভাগ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া সহ আশে পাশের এলাকায় একনামে পরিচিত ভোলা ব্যাপারী। সবাই ডাকেন ভোলা চাচা বলে। পত্রিকা নেওয়ার কথা ভাবলেই ভোলা চাচার কথা মনে পরে সবার। বয়সের ভারে আক্রান্ত হয়ে দুই বৎসর আগে প্যারালাইসিন্সে আক্রান্ত হন ভোলা চাচা। তবুও জীবন সংগ্রাম থেমে নেই তার। সকাল হলেই অতিকষ্টে পত্রিকা হাতে নিয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে পথচলা আর পত্রিকা বিক্রির কাজ। বাজারের দোকানে দোকানে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করা আয় থেকেই কোন মতে সংসার চলে তার। এখন আর তেমন চলতে পারেন না।

আশির দশকে তামাক ব্যবসা বাদ দিয়ে পত্রিকা বিক্রিতে নিয়োজিত হন গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর গ্রামের ভোলা ব্যাপারী। সংসারে ২ ছেলে থাকলেও যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত তারা। পত্রিকা বিক্রি করে প্রায় ৪০ বছর ধরে সংসার ভালই চলছিল তার। হঠাৎ দুই বছর আগে শরীর দূর্বল হয়ে প্যারলাইসিস রোগে আক্রান্ত হন ভোলা চা। বন্ধ হয়ে যায় তার সংসারের চাকা। চিকিৎসা করার জন্য অর্থ সংকট হয়। অনেক কষ্টে এখন কোন মতে হেটে চলতে পারেন তিনি।

তারপরও বর্তমানে ৮২ বছর বয়সেও মনোবল হারাননি ভোলা চাচা। আবারও শুরু করেন পত্রিকা বিক্রির পেশা। সামান্য পথ হাটতেই হাপিয়ে ওঠেন। অল্প রাস্তা চলতে অনেক সময় লাগে তার। জীবন সায়ান্নে এসে সংগ্রামের সাথে কষ্ট করে হলেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করা কষ্টই হয়ে দাড়িয়েছে তার। ভোলা চাচার সাথে কথা হলে তিনি বলেন- বাবা রে মানুষের কাছে হাত পাততে চাইনা। শরীর যে কয়দিন চলবে পেপার ঁেবচেই চলতে চাই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য