দিনাজপুর হাবিপ্রবিতে কৃষিবিদ দিবস-২০২১ পালিত

দিনাজপুর

হাবিপ্রবি সংবাদাতাঃ ‘বঙ্গবন্ধুর অবদান’কৃষিবিদ ক্লাস ওয়ান’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিবিদ দিবস-২০২১ পালিত হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড.বিধান চন্দ্র হালদার এর নেতৃত্বে শিক্ষক,কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীদের এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়।র‍্যালিটি প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে কৃষিবিদ দিবসের তাৎপর্যের উপর ভিত্তি করে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড.বিধান চন্দ্র হালদার বলেন,১৯৭৩ সালের আজকের এই দিনে (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের ক্লাস ওয়ান পদ মর্যাদার ঘোষণা দেন।বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণার ফলে হাজার হাজার মেধাবী ছাত্র কৃষিতে পড়াশোনা এবং কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটি স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রী মহলের হস্তক্ষেপে কৃষি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার, অনিয়ম, দুর্নীতি,অব্যবস্থাপনার ফলে বিপুল সম্ভাবনাময় কৃষি খাতের উন্নয়ন থমকে যায়। পরবর্তীতে তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন এবং কৃষিবিদদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্না অর্জন করতে সক্ষম হয়। শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয় কৃষিবিদরা এখন বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্যাডারেও অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে,যা অত্যন্ত গর্বের।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষি অনুষদের ডীন (সদ্য বিদায়ী) প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন,এক সময় কৃষিবিদরা অবহেলিত ছিল পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর কল্যাণে কৃষিবিদরা প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা লাভ করেছে। দেশের সকল সেক্টরে এখন কৃষিবিদদের পদচারণা। এই কৃষিবিদদের কারণেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করেছে। মানুষের চিকিৎসার জন্য যেমন দেশের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারের পাশাপাশি একজন জুট এক্সটেশন অফিসার নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আগে যিনি ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁর কাছে কোন দাবি-দাওয়া নিয়ে কোন কথা বললে তিনি বলতেন, আই গোট দ্যা মেসেজ। এখন নতুন বাহির থেকে কেউ ভিসি হয়ে আসলে তিনিও হয়তো বলতে পারেন আই সী দ্যা ম্যাটার! এটা তো হতে পারে না। আমাদের এখানে অনেক পটেনশিয়াল ব্যক্তি আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন তাঁদের মধ্য থেকে সরকার যাকে যোগ্য মনে করেন তাঁকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিক তাতে আমাদের কোন আপত্তি নাই। ভেতর থেকে যে-ই আসুক আমরা তাঁকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদের আহবায়ক কৃষিবিদ ফেরদৌস আলম, ছাত্রনেতা রাসেল আলভী ও রিয়াদ খান প্রমুখ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক প্রফেসর ড.মো.মোস্তাফিজার রহমান, জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার, আই আর টি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো.তারিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের হল সুপার প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন,সহকারী প্রক্টর ড মো রবিউল ইসলাম, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের হল সুপার ড. মো. আবু সাঈদ,ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক আব্দুল মোমিন সেখসহ বিভিন্ন অনুষদীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা,শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য