জাতীয় পতাকার অবমাননার ঘটনায় ১৯ জনের ক্ষমা প্রার্থনা

রংপুর বিভাগ

বিজয় দিবসে বিকৃত জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি তোলার ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা দেশ ও জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে বুধবার।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকায় সবুজের ভিতর লাল বৃত্তের পরিবর্তে লাল অংশটি করা হয় চারকোনা। এছাড়া পায়ের নিচে লাগিয়ে ছবি তোলেন।

এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৫তম বিশেষ সভায় ওই ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শিক্ষক-কর্মকর্তাকে পত্র দিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক করা হয়েছিল এবং দেশ ও জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেকে ক্ষমা চেয়ে উপাচার্যের কাছে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বক্তব্য প্রদানকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা হলেন গণিত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আর এম হাফিজুর রহমান, অর্থনীতির অধ্যাপক মো. মোরশেদ হোসেন, বাংলা বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক পরিমল চন্দ্র বর্মণ, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুর আলম সিদ্দিক, পরিসংখ্যানের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহজামান, সহযোগী অধ্যাপক মো. রশীদুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, পদার্থবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. ছদরুল ইসলাম সরকার, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার সরকার, পরিসংখ্যানের সহকারী অধ্যাপক চার্লস ডারউইন, মার্কেটিংয়ের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ-উল-হাসান, সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক রাম প্রসাদ বর্মণ, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রভাষক শামীম হোসেন, রসায়নের প্রভাষক মোস্তফা কাইয়ুম শারাফাত, পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক আবু সায়েদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার প্রভাষক রহমতুল্লাহ্, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের প্রভাষক সোহাগ আলী এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-১) শুভঙ্কর চন্দ্র সরকার।

ওই ঘটনায় পরদিন [১৭ ডিসেম্বর] উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ ৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান।

জাতীয় পতাকা বিকৃতি ও অবমাননার অভিযোগে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ।

এছাড়া, তাজহাট আমলি আদালতে ১০ শিক্ষক ও ৩ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে নালিশী মামলা করেন রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ। ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পিবিআই।

এই তিন মামলার একটিতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন এই ১৯ শিক্ষক কর্মকর্তা। -বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য