poto-15সুবল রায়,বিরলঃ দিনাজপুরের বিরল স্থল বন্দর একটি প্রাচীন স্থল বন্দর। দেশের যে কটি নামী দামী স্থল বন্দর রয়েছে তার মধ্যে বিরলও হতে পারত অন্যতম একটি স্থল বন্দর। এক সময় দেশের বেনাপল, বুড়িমারী ও বিরল স্থল বন্দর সুনামের সাথে শুল্ক বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং এখান থেকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছিল। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য স্বাধীনতার পর বেনাপল ও বুড়িমারি পুর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর হলেও বিরল স্থল বন্দর এখনও আশার মুখ দেখেনি।

বিরলে স্থলবন্দর যার অবস্থান উপজেলা ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নে। এই বন্দরের ভিত্তি প্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছিলো আজ থেকে ৫ বছর আগে। কিন্তু শুরু হয়নি কার্যক্রম। উপজেলার সর্বস্তরের সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করে আসছে অবিলম্বে এর কার্যক্রম চালুর দাবিতে।

বিরল উপজেলা শহর হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে কিশোরীগঞ্জ সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকার চকশংকর মৌজার ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিরল শুল্ক স্থলবন্দর স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে কোন অগ্রগতি আর লক্ষ্য করা যায়নি। শুধু বিভিন্ন সময় সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে বিভিন্ন টিম এসে সুপারিশ করে গেছেন। এদিকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর প্রস্তাবে রাজি হয়ে ভারত সরকার ভারতের রাধিকাপুর থেকে রেললাইন সংস্কার করে মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করেছে। প্রায় ৭ বছর আগে ভারত সরকার ব্রডগেজ রেললাইন তৈরি করছে।

ফলে ২০০৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশের বিরল হতে ভারতের রাধিকাপুর পর্যন্ত রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুল্ক বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সরকার এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হয়েছে। ধারণা করা হয় যে, বন্দরটি চালু হলে বিরলে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে এলাকার দরিদ্রতার হার কমে আসবে, ফলে তারা সামাজিক ভাবে বসবাস করতে পারবে অতি সাচ্ছন্দে। ভ্রমণ পিপাসুরা সহজেই এ পথ দিয়ে ভারত-নেপাল-ভুটান ভ্রমণ করতে পারবে। তাছাড়া, হিলি বা সোনা মসজিদ পর্যন্ত না গিয়ে বিরল স্থলবন্দর দিয়েই রংপুর-দিনাজপুর জেলার অনেক মানুষ ভারতে যাওয়া-আসা করতে পারবেন। উপজেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।

বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হবে। ইতোমধ্যে স্থলবন্দর পরিচালনার জন্য বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ বছরের তত্ত্ব¡াবধানের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। মাত্র সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করে স্থলবন্দরটি চালু করা হলে সরকারের রাজস্ব আয়সহ কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের। দিনাজপুর বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই স্থলবন্দর চালুর প্রক্রিয়া নানা ধরনের জটিলতা আর দীর্ঘ সূত্রিতায় আটকা পড়ে থাকায় সরকারের অধিগ্রহণকৃত ১৭ একর জমি বেদখল হতে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে ২০০৫ সালে বিরল শুল্ক বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর করার জন্য ভারত-বাংলাদেশ মিটারগেজ রেললাইনকে ব্রডগেজ রেললাইন করার জন্য সে সময় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করা হয়। ভারত সরকার ব্রডগেজ রেললাইন করলেও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন স্থাপন এর কাজ সমাপ্ত করেননি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একনেকের সভায় পার্বতীপুর হতে বিরল সীমান্ত পর্যন্ত বর্তমান মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর করার জন্য প্রকল্প অনুমোদিত হয় ইতিমধ্যে গত ২ বছর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালসহ উচ্চত্বর কর্মকর্তা এই স্থল বন্দর পরিদর্শন করেন। বিরল তথা দিনাজপুর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘‘বিরল স্থলবন্দর এবার বুঝি চালু হবে’’ বন্দরটি চালু না হওয়ায় সরকার যেমন মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরাও। এটি এ সরকারের আমলেই পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসাবে চালু হবে – সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা দিনাজপুর বাসীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য