ইরান শর্ত না মানলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়: বাইডেন

আন্তর্জাতিক

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির শর্তগুলো না মানা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলবে না যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা জা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় ইরানের পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাইডেন। সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন এ চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেন। বাইডেন সমঝোতায় ফেরার কথা বললেও অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক কার্যক্রম ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছিলেন। তবে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে অভিষেকের পর তেহরানের ব্যাপারে দৃশ্যত হার্ডলাইনে যান তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাইডেন প্রশাসন বলে আসছে, ইরান পুরোপুরিভাবে চুক্তিতে ফেরার আগ পর্যন্ত মার্কিন আলোচকরা দেশটির সঙ্গে কোনও আলোচনায় যাবে না। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার বাইডেন সাফ জানিয়ে দেন, স্রেফ আলোচনার জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, আমেরিকা যদি আগে তেহরানের ওপর থেকে যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়, তবেই ইরান পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে ফিরবে।

২০১৫ সালের চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার পরিবর্তে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ২০১৮ সালে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান চুক্তির বেশ কয়েকটি শর্ত ভঙ্গ করে। এর অংশ হিসেবে ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়িয়ে চলছে এবং বলছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রিয়্যাক্টর জ্বালানি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এই একই জিনিস পারমাণবিক বোমা তৈরিতেও ব্যবহার হয়।

কেন পরমাণু চুক্তি ভেস্তে গেলো?

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইরানের একটি পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তেহরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পারমাণবিক প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করতে দেবে বলে একমত হয়েছিল। এর বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করা হয়।

ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ওবামা আমলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলের পর এ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে যান তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে নতুন একটি চুক্তিতে আসার জন্য আলোচনা করতে চাপ দেন। একইসঙ্গে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

ট্রাম্প তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নজরদারি রাখতে চেয়েছিলেন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উৎপাদনও থামিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের শুদ্ধতার মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশের চেয়ে বাড়িয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা দেয়, তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে। অস্ত্র তৈরি করতে ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন।

রবিবারের সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে বাইডেনকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেবেন কি না। বাইডেন এক কথায় এর জবাব দিয়েছেন, ‘না’।

অন্যদিকে আলী খামেনি বলেছেন, এই চুক্তির আওতায় ইরানকে সব শর্তে ফিরিয়ে আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে হবে।

তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের সবকিছু মূল্যায়ন করবো। যদি দেখি যে, তারা এই বিষয়ে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করছে, তাহলে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিতে ফিরে যাবো। এটাই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা বদলাবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক

সিবিএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন বাইডেন। তিনি বলেন, বেইজিং-এর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দুই দেশই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।

জো বাইডেন বলেন, তিনি গত মাসে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তার কোনও কথা হয়নি। বেইজিং-এর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিরও কোনও পরিবর্তন হয়নি।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কে বাইডেন বলেন, ‘তিনি খুব বুদ্ধিমান, তিনি খুব কঠোর। তার অস্থিমজ্জার কোথাও গণতন্ত্রের প্রথম অক্ষরটিও নেই।’ সূত্র: বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য