করোনার টিকা নিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক

রংপুর বিভাগ

মরণঘাতী করোনার ভ্যাকসিন নিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর। এ সময় সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সিরাজুল হকসহ মোট ১০৫ জন এই টিকা গ্রহন করেন।

রোববার (৭ ফেব্রুয়ারী) বলা ১২টার দিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের উদ্বোধন করা হয়।

সারাদেশের ন্যায় লালমনিরহাটে করোনার ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য নিবন্ধিত ১৫৭৭ জনের মধ্যে ১০৫ জন করোনা টিকা গ্রহন করেন। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের সিনিয়র নার্স চামেলি বেগম প্রথমে ভ্যাকসিন নেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন নেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর, হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সিরাজুল হক, সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু রায়, সদর ইউএনও উত্তম কুমার রায়, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্যান্যরা টিকা গ্রহন করেন। এ ছাড়া আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার আরও ৫টি টিকা কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের ৩৪ জন সদস্য ও প্রশাসন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য ৭১ জনসহ জেলায় মোট ১০৫ জন করোনা টিকা নেন। এ সময় আদিতমারী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম উপজেলায় প্রথম টিকা নেন।

দেশে প্রথম টিকা দেওয়া হয় ২৭ জানুয়ারি, আর এই টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী দিনেই টিকা নেন ২৬ জন। দেশে প্রথম টিকা নেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। পরদিন রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ পাঁচ শতাধিক কর্মীকে টািকা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সারা দেশে যেসব কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে, এর সবগুলোই সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট বুথ বা দল থাকছে এক হাজার ৪০২টি। অর্থাৎ একেকটি টিকাদানকারী দল একটি বুথ হিসেবে কাজ করছে। প্রতি বুথে থাকছেন দুজন টিকাদানকর্মী ও দুজন স্বেচ্ছাসেবক। টিকাদানকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নার্স, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা সেকমো। আর স্বেচ্ছসেবকের দায়িত্বে রয়েছেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ আরো কিছু সংগঠনের কর্মীরা। টিকাদানকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

লালমনিরহাটে ৬টি কেন্দ্রে আজ টিকা দেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মোট ৬টি টিম কাজ করছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর বলেন, জনগন যেন এই ভ্যাকসিন নিতে ভয় না পায় এজন্য প্রথম দিনে আমি নিজেই টিকা গ্রহন করেছি। এই টিকার কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া নাই বলেও জানান তিনি। করোনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য