তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

রংপুর বিভাগ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ মাঘের শেষে এসেই বিদায় নিচ্ছে শীত। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুব বেশি একটা কম না হলেও দিনভর কড়া রোদের কারণে পঞ্চগড়ে কয়েকদিন ধরে বেড়েই চলছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

বৃহস্পতিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এই তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরে নেয় আবহাওয়া অফিস। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ বলতে যা বোঝায় তার কোন প্রভাব নেই পঞ্চগড়ে। গত সোমবার থেকে মেঘ ও কুয়াশামুক্ত সকাল থেকে দিনভর পুরো তেজ নিয়েই সূর্যের আলো থাকায় উবে গেছে শীত। দিনভর কড়া রোদ আর উত্তরের হিম বাতাস প্রবাহিত না হওয়ায় এখন রাতের বেলাতেও খুব বেশি একটা শীত অনুভূত হচ্ছে না। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছিল তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ুরও। পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের ঋতুতেও। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে শীত, গ্রীস্ম ও বর্ষা ছাড়া অন্য ঋতুর দেখা মেলাই ভার। তারপরও পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে আশ্বিনের শেষ ও কার্তিকের শুরু থেকেই আগের মতই শুরু হয়ে যায় শীত মৌসূম। প্রতি বছর ওই সময়টাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ঝড়-বৃষ্টির পর থেকেই শীতের দেখা মিলতে থাকে। পঞ্চগড়ের স্থানীয় ভাষায় যাবে বলা হয় ‘আশিন সাঁতাও’।

এই আশিন সাঁতাও থেকে শুরু হয়ে শীত মৌসূম থাকে মাঘের শেষ পর্যন্ত। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা হিসেবে হিমালয়ের খুব কাছেই অবস্থান পঞ্চগড় জেলার। এ কারণে এখানে শীতের দাপট থাকে প্রচন্ডভাবে। চলতি মৌসূমের এর ব্যাত্যয় ঘটেনি। মৌসূমের অধিকাংশ দিনে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। হিমালয় থেকে আসা কনকনে শীতল হাওয়ায় প্রচন্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে যায় পঞ্চগড়ের মানুষগুলো। শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দূর্ভোগে পড়ে শীতার্ত মানুষগুলো। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া শীতবস্ত্র ছাড়াও বেসরকারিভাবেও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীত দূর্ভোগের হলেও শীতকে উপভোগ করে অনেকে। এই শীতের মধ্যেই উঠে নতুন আমন ধান। নতুন ধানের পিঠা পুলি খাওয়ার আনন্দে মেতে উঠে গ্রাম বাংলার মানুষরা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, দিনভর সূর্যের আলোর সাথে শীতল বাতাস প্রবাহিত না হওয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়ছে। এভাবে আর কয়েকদিন চললে শীত মৌসূম বিদায় নেবে। সামনের দিনগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমবেশি হলেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। এতে করে আর শীতের প্রভাব থাকবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য