কৃষি আইন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক

ভারতে নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই মোদি সরকারের পাশে দাঁড়ালো যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ভারতের এই আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে মার্কিন দূতাবাস।

বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের একটি বৈশিষ্ট্য। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও একই কথা বলেছে। আমরা আশা করি, সংলাপের মাধ্যমে উভয়পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের সমাধান করা উচিত। কৃষি আইন নিয়ে ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে তাদের বাজারই উপকৃত হবে। পাশাপাশি দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগের রাস্তাও তৈরি হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, যাবতীয় তথ্য ও জনগণের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সরবরাহ মত প্রকাশের স্বাধীনতা পরিচায়ক, যা একটি সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসন ভারত সরকারের পাশে দাঁড়ালেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পার্লামেন্টে একটি বিতর্কসভার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। জনমতের ওপর ভিত্তি করেই বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান ঠিক করতে চায় ব্রিটেন।

এদিকে ভারতের কৃষক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ। মঙ্গলবার রাতে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে সিএনএনের একটি সংবাদ শেয়ার করে নতুন তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। বিক্ষোভরত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় মার্কিন পপ-তারকা রিয়ান্নাও। তার টুইটের কয়েক ঘণ্টা পর কিশোর জলবায়ু পরিবর্তন কর্মী গ্রেটা থানবার্গ, প্রাক্তন পর্ন তারকা মিয়া খলিফা এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভাগ্নি মিনা হ্যারিসও কৃষকদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। রিহানা ও গ্রেটার টুইটের জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রিচা চাড্ডা, দিলজিৎসহ আরও অনেকে। কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিস ট্রুডোও। সেই সময় তাকেও একহাত নিয়েছিলেন কঙ্গনা। কানাডার আইন-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে তুলে কটাক্ষ করেছিলেন।

মঙ্গলবার কৃষকদের লালকেল্লা অভিযান ঘিরে উত্তাল হয়েছে দিল্লীর রাজপথ। লালকেল্লার প্রাচীরে আন্দোলকারীদের পতাকা লাগানোর ছবি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বুধবার আন্দোলনকারীদের একাংশের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। তার বক্তব্য, যে ব্যক্তি লালকেল্লায় পতাকা লাগানোর চেষ্টা করছিলেন, তাকে অতীতে কয়েকজন বড় মাপের বিজেপি নেতার সঙ্গে একাধিক বার দেখা গেছে। ফলে আন্দোলনের প্রকৃত অভিমুখ গুলিয়ে দেয়ার কারণেই মঙ্গলবারের ওই গোলমাল সংগঠিত হয়েছিল কি না, এদিন সেই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য