কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবেলায় লকডাউনে থাকা ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার শহর পার্থের বাইরে ক্রমবর্ধমান একটি দাবানল কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য করছে।

তীব্র বাতাসের ঝাপটায় অগ্নিকাণ্ডটি এক রাতের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে ৭৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আগুনে এরই মধ্যে ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শহরটি লকডাউনে থাকলেও কর্তৃপক্ষ এখন দাবানলের আশপাশের এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার (ডব্লিউএ) প্রিমিয়ার মার্ক ম্যাকগোয়ান বলেছেন, তার রাজ্য ‘খুবই গুরুতর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’ মোকাবেলা করছে।

“এই মুহুর্তে ডব্লিউএ দুটো পৃথক জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লড়ছে, বিপজ্জনক আগুন ও কোভিড-১৯ লকডাউনজনিত পরিস্থিতির বিরুদ্ধে,” বলেছেন তিনি।

দাবানল নিয়ে সতর্ক করলেও রাজ্যের রাজধানীর সিংহভাগ বাসিন্দাকে বাড়ির ভেতরে থেকেই সংক্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন ম্যাকগোয়ান। দাবানলের পথে ওইসব এলাকা পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

পার্থে সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমিত এক ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে; এর পরপরই রোববার থেকে ২০ লাখ বাসিন্দার শহরটিতে ৫ দিনের লকডাউন দেওয়া হয়। ১০ মাসের মধ্যে পশ্চিম অস্ট্রেলীয় শহরটিতে এটিই স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের প্রথম ঘটনা।

“আসছে দিনগুলো সবার জন্যই খুব চ্যালেঞ্জের হতে যাচ্ছে। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখতে যা যা করা সম্ভব করুন এবং একে অপরের খেয়াল রাখুন,” বলেছেন ম্যাকগোয়ান।

বিবিসি জানিয়েছে, ‘উরুলু ফায়ার’ নামের অগ্নিকাণ্ডটির খোঁজ প্রথম মেলে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে। এরপর থেকেই অগ্নিকাণ্ডটি ক্রমেই বড় হচ্ছে।

পার্থের অনেক বাসিন্দা মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে জেগে শহরজুড়ে তীব্র ঘন ধোঁয়ার উপস্থিতি টের পান। অগ্নিকাণ্ডের ৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা অনেক বাসিন্দা আকাশ থেকে ছাই ঝরে পড়ছে বলেও খবর দেন।

দমকল বাহিনী পরে এলেনব্রুক, এভারলে ও ব্রিগেডুনসহ উত্তরপশ্চিমের বেশ কয়েকটি মফস্বল এলাকার বাসিন্দাকে ‘তাৎক্ষণিক বিপদ’ বিবেচনায় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে কিংবা দাবানল মোকাবেলার পরিকল্পনা সক্রিয় করতে অনুরোধ জানায়।

কাছাকাছি অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে মাস্ক পরিহিত ও সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে চলা প্রায় আড়াইশ দমকল কর্মী কাজ করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গরম ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি ফায়ার কমিশনার ক্রেইগ ওয়াটারস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য