দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১৪ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এইচএসসি ফল ঘোষণার পর সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় বোর্ডের সচিব প্রফেসর আমিনুল হক সরকার, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ফারাজ উদ্দিন তালুকদার, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর হারুন অর রশিদ মন্ডল, শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব মাসুদ আলম, সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যানে জানানো হয়, চলতি বছরে এই বোর্ডের অধীনে ৮টি জেলার মোট ৬৫৭টি কলেজের এক লাখ ১৮ হাজার ৭৩৫ জনকে কৃতকার্য দেখানো হয়েছে। মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ হাজার ২৯৭ জন ছাত্র ও ৭ হাজার ৫৭৪ জন ছাত্রী। গত বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। গত বছরে শিক্ষার্থী ছিল এক লাখ ২৬ হাজার ৩৭৯ জন আর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৪৯ জন। আর এবারে ৭ হাজার ৬৪৪ জন শিক্ষার্থী কম থাকলেও গত বছরের তুলনায় ১০ হাজার ৮২২ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছেন রংপুর জেলার শিক্ষার্থীরা। এই জেলায় মোট ৬ হাজার ১৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন দিনাজপুর জেলার শিক্ষার্থীরা, এই জেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০ জন। এছাড়াও এক হাজার ৬০৬ জন জিপিএ-৫ পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে নীলফামারী জেলা,এক হাজার ৫৩৫ জন জিপিএ-৫ পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে গাইবান্ধা জেলা,এক হাজার ১৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে ঠাকুরগাঁও জেলা, এক হাজার ৭২ জন জিপিএ-৫ পেয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে কুড়িগ্রাম জেলা, ৫১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়ে সপ্তম অবস্থানে লালমনিরহাট জেলা এবং ২৯৬ জন জিপিএ-৫ পেয়ে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা।

এবারে বিজ্ঞান বিভাগে ২৭ হাজার ৫৭৬ জন, মানবিক বিভাগে ৭৭ হাজার ৪০৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৩ হাজার ৭৫১ জন শিক্ষার্থী ছিল। মূল্যায়নে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৭১ জন যা মোট শিক্ষার্থীর ১২.৫২ শতাংশ, ৪১ হাজার ৩৫৫ জন পেয়েছেন জিপিএ-৪ থেকে জিপিএ-৫ এর মধ্যে যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৪.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৩.৫ থেকে জিপিএ-৪ এর মধ্যে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩৯৫ জন যা মোট শিক্ষার্থীর ২২.২৩ শতাংশ, জিপিএ-৩ থেকে জিপিএ-৩.৫ এর মধ্যে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৫৭ জন যা মোট শিক্ষার্থীর ১৫.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-২ থেকে জিপিএ-৩ এর মধ্যে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১৫ জন যা মোট শিক্ষার্থীর ১৩.৯৯ শতাংশ এবং জিপিএ-১ থেকে জিপিএ-২ এর মধ্যে পেয়েছেন ৬৪২ জন যা মোট শিক্ষার্থীর ০.৫৪ শতাংশ।

প্রসঙ্গত ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের সবাই পাস করেছেন। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল এবং অনলাইন ক্লাসের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই ফল প্রকাশিত হলো।

এর আগে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফল ঘোষণা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ।

এতে আরও বলা হয়, এবার অনলাইনে প্রকাশিত হবে পরীক্ষার ফল। পরীক্ষা কেন্দ্রে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ফল পাঠানো হবে না। কাজেই কোনও অবস্থাতেই ফলাফল প্রকাশের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত হওয়া যাবে না। যারা মুঠোফোনের খুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফল পেতে ইচ্ছুক তাদের ফল প্রকাশের আগেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

ফল পেতে HSC<>Board name (First 3 letter)<> Roll<>2020 টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের ফল পৌঁছে যাবে। এছাড়া এই www.educationboardresults.gov.bd থেকে ফল দেখা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য