হিমালয়ের কনকনে শীতল বাতাসে কাবু পঞ্চগড়ের শীতার্ত মানুষগুলো

রংপুর বিভাগ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ গত শুক্রবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের হিসাব মতে এটি মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ। তবে সকালে কিছুটা দেরীতে হলেও মেঘমুক্ত আকাশে সূর্যের উত্তাপ ছিল দিনভরই। এ কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের কনকনে শীতল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়ে পঞ্চগড়ের মানুষগুলো। রাত ৮টার পর থেকে ফাঁকা হতে থাকে হাট বাজার। রাতভর ঘন কুয়াশা না থাকলেও গতকাল শনিবার সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে দিনভর দেখা যায়নি সূর্যের মূখ।

শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটে। আবহাওয়া অফিস বলছে, কুড়িগ্রাম ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

শৈত্যপ্রবাহ না থাকলে চলতি শীত মৌসূমের শীতলতম দিন হিসেবে শনিবারকে অভিহিত করেছে পঞ্চগড়ের মানুষরা। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে থাকায় এদিন তীব্র শীত অনুভূত হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন থাকায় বিনা প্রয়োজনে কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি। আর প্রয়োজনে যারা বেরিয়েছিল তারা দুপুরের মধ্যে বাড়ি ফিরে যায়। বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

সূর্যের আলো না থাকা এবং হিমালয় থেকে আসা কনকনে শীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কারণে তীব্র শীতে দিনভর কাহিল ছিল পঞ্চগড়ের শীতার্ত মানুষগুলো। গ্রামাঞ্চল তো দুরের কথা খোদ জেলা শহরেও আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে শীতার্ত মানুষগুলোকে। তীব্র শীতে খুব কষ্টে আছে শ্রমজীবি ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। কনকনে শীতের কারণে অনেকেই কাজে বের হয়নি। এরই মধ্যে পেটের তাগিদে তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী মহানন্দায় পাথর তুলতে নেমেছিল অনেক শ্রমিককে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কম হওয়ায়সহ সূর্যের আলো না থাকা এবং উত্তরের ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত অব্যাহত থাকার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থা ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এরপর থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পেতে শীত বিদায় নেবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য