পঞ্চগড় জেলায় প্রাথমিকভাবে ২১ হাজার ৬শ’ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে

রংপুর বিভাগ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ করোনা ভ্যাকসিন গ্রহনে প্রস্তুত পঞ্চগড় স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এ জেলায় করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদানের উদ্বোধন করা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন। সভায় কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান, কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিকুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোজাফফর রহমান, ডা. তোফায়েল হোসেন, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলমসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে জেলার জন্য ২ হাজার চারশ’টি ভায়াল পাওয়া যাবে। এর একটি থেকে নয় জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সে হিসেবে ২১ হাজার ছয়শ’ জনকে এই টিকা দেওয়া যাবে। করোনার টিকা রাখার স্থানসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৮টি ক্যাটাগরির মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের এই টিকা দেওয়া হবে।

এজন্য প্রত্যেককে অনলাইনে নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে গিয়ে নিজের উদ্যোগে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। ১৮ ক্যাটাগরির বাইরে ৫৫ বছরের উর্ধে নাগরিকরাও করোনা ভ্যাকসিনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন এবং তারাও প্রথম পর্যায়ে ভ্যাকসিন পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডা. আমির হোসেন, মেডিকেল অফিসার তোফায়েল আহমেদ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজাফফর হোসেন ও পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলম প্রথম করোনা টিকা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সভায় জানানো হয়।

সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান বলেন, আধুনিক সদর হাসপাতালে চারটি, চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং জেলা পুলিশ লাইন্সে একটি টিম ১৮টি ক্যাটাগরিতে ভ্যাকসিনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনকৃতদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে করোনার ভ্যাকসিন পৌছানোর কথা রয়েছে। এখন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান উদ্বোধন করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত ১৮টি ক্যাটাগরিতে টিকা নিতে আগ্রহীদের প্রত্যেককে স্ব-স্ব উদ্যোগে নিবন্ধন করতে হবে। এর বাইরে ৫৫ বছরের বেশি বয়স্করাও টিকার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য