দিনাজপুর সংবাদাতাঃ শষ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জনপদ দিনাজপুর জেলায় আবাদী জমি মাঠ প্রান্তর। পৌষের হিমেল বাতাসে দিনাজপুর জেলায় আলু চাষে কৃষকরা পরিশ্রম করছে। এবার ভাল দামের আশায় বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

তবে ঘন কুয়াশা ও শৈত প্রবাহ বেশী না থাকলে লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে কৃষকরা মনে করে। গতবার ৪৪,৯০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল।

এই মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ৪৮,৮৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে এবারে আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০,৭১৩৬০ মেট্রিক টন। উচ্চ ফলনশীল আলু জাতের মধ্যে কারেজ, কার্ডিয়াল, স্টারিক্স, ডায়মন্ড, রুমানা, গ্রানুলা, কাবেরী আর স্থানীয় আলুর মধ্যে সাদা পাটনাই, চল্লিশা, শীল বিলাতী, লালপাকড়ী, বগুড়াই চাষাবাদ হয়।

দিনাজপুর জেলায় আলু চাষের ক্ষেত্রে বীরগঞ্জ উপজেলায় ৯,৮০০ হেক্টর, বিরল উপজেলায় ৯,১৪০ হেক্টর, ও সদর উপজেলায় ৪,৫৫০ হেক্টর জমিতে কারেজ, কার্ডিয়াল, স্টারিক্স, ডায়মন্ড, গ্রানুলা উন্নতমানের আলু চাষ হচ্ছে।

দিনাজপুর বীরগঞ্জ উপজেলায় দুলুয়া বাজার এলাকায় কৃষক মামুন বলেন, গত মৌসুমে আলুর ভালো দাম পেয়েছিলাম, এবার শৈত প্রবাহ না থাকলে আলুর ফলন ভালো হবে। তিন বিঘা জমিতে গ্রানুলা জাতের আলুর চাষ করেছি।

বিরল উপজেলায় কাশীডাঙ্গা গ্রামের রঘুনাথ রায় বলেন, বাম্পার ফলন হয়েছে, ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত শৈত প্রবাহ অব্যাহত না থাকলে ফলনের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। চার বিঘা জমিতে কার্ডিয়াল জাতের আলু চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ১৩০ মন থেকে ১৬০ মন পর্যন্ত হতে পারে।

দিনাজপুর সদর উপজেলান ৪ নং শেখপুরা ইউনিয়নের বলতৈর এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক আলুর বীজ নিয়ে এসেছি ভাল ফলনের জন্য। আলুর গাছ খুব সতেজ আছে বর্তমানে কোন রোগ-বালাই নাই। পাঁচ বিঘা জমিতে স্টারিক্স জাতের আলু চাষ করেছি। ঘন ঘন শৈত প্রবাহ না হলে আশানারুপ ফলন হবে।

এই বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, এবার দিনাজপুর জেলায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ বেশী হচ্ছে। আলুর ভাল ফলন হয়েছে। রোগ-বালাই কম। আগাম আলুতে কৃষকরা দাম ভাল পেয়েছে। পরবর্তী সময়েও আলুর দাম পাবে কৃষকরা। বিদেশে আলুর রপ্তানী বাড়ানোর জন্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

তাছাড়া আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর জন্য নানামুখী খাবার তৈরিতে উৎসাহ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আরো বলেন, বেসরকারীভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আলুর বিভিন্নমুখী ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেট জাত খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সেই আলুর প্যাকেট জাত খাদ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করবে। বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে ১৮ টন থেকে ২২ টন পর্যন্ত আলুর ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য