আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের শাখা অফিসটি অন্যত্র স্থানান্তরের পায়তারা অব্যাহত থাকার প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকের বড় অংশটি তাদের নিজ নিজ একাউন্ট প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছে। এ মর্মে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একাধিক স্মারকলিপি প্রেরণের কথাও স্বীকার করেছে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানান, উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরের রংপুর-বগুড়া জাতীয় মহাসড়ক সংলগ্ন একটি সুরক্ষিত তিনতলা ভবনের দ্বিতীয়তলায় ৩ হাজার ৯শ’ ৭০ বর্গাফুট আয়তন বিশিষ্ঠ আবাসিক গৃহে ১৯৬৫ সালে সোনালী ব্যাংকের গোবিন্দগঞ্জ শাখা অফিস স্থাপিত হয়। একটানা ৪৯ বছর ব্যাপী পরিচালিত এই শাখা অফিসটি গোবিন্দগঞ্জ থানার কাছাকাছি থাকায় নিরাপত্তার কোন ঝুঁকি নেই। অতীতেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার নজির নেই। এখানে ব্যাংকের টাকা গচ্ছিত রাখার ভোল্ট অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী। এই শাখা অফিসের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমে জাতীয় মহাসড়কের দু’প্রান্তে ৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা চালু থাকায় স্থানীয় ভাবে এলাকাটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বেশ সৃমদ্ধ হয়ে উঠেছে। কিন্তু একটি অসাধু ও কুচক্রী মহলের গোপন কারসাজিতে বাণিজ্যিক এলাকায় স্থাপিত ব্যাংকের অতি প্রাচীন শাখা অফিসটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানান্তরের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রস্তাবিত ভবনটি থানা থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত হওয়ায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও লুটপাতের আশংকায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে একাধিক আবেদন ও স্মারকলিপি পেশ করেছে। ওই স্মারকলিপর ভিত্তিতে রংপুর অঞ্চলের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক স্থানান্তর কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করলেও নতুন উপ-মহাব্যবস্থাপক রংপুরে যোগদানের পর তা পুর্ণরায় প্রস্তাবিত নতুন ভবনে স্থানান্তরের পায়তারা করছেন। এই কিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সচেতন গ্রাহকরা তাদের একাউন্ট প্রত্যাহারের পাশাপাশি অন্য ব্যাংকে ছুটে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। গোবিন্দগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম জানান, বর্তমান শাখাটি যেখানে চলমান আছে। সেখানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে মাসিক ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা। আর প্রস্তাবিত নতুন অফিসের ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকাসহ নগদ বায়না ১০ লাখ টাকার অগ্রিম প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। যা ব্যাংকের আর্থিক অপচয় ও লোকসানের মুখে অহেতুক ঠেলে দেয়ার শামিল। গোবিন্দগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি একেএম ইব্রাহিম বলেন, ব্যাংকের পুরাতন শাখা অফিসটি ৩ হাজার ৯শ’ ৭০ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট এবং প্রস্তাবিত নতুন অফিসটির আয়তন ৪ হাজার বর্গফুট। অথচ ৪০ হাজার টাকার ভাড়া চুক্তির পাশাপাশি ১০ লাখ টাকার আগাম লেনদেন একটি অনিয়ম-দূর্ণীতির নজির বটে। গোবিন্দগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান দাবি করেন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা সাপেক্ষে সোনালী ব্যাংকের পুরাতন শাখা অফিসটিই বহাল রাখার অনুকুলে অনেক যুক্তি আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তা স্থানান্তর হলে এক দিকে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হবে, অপর দিকে নিরাপত্তার অভাবে গ্রাহকরা একাউন্ট প্রত্যাহারে বাধ্য হতে পারে। সোনালী ব্যাংকের গোবিন্দগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল হাই এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবিত নতুন ভবনে শাখা অফিস স্থানান্তরের সবপ্রস্তুতি যখন চুড়ান্ত প্রায়, তখন ওই নতুন ভবনটি থানা থেকে দুরে এবং নিরাপত্তার ঝুঁকির অজুহাতে একটি মহল ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। ওই মহলটি প্রধান শিক্ষক কার্যালয়েও অভিযোগ-আপত্তি জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য