দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ২২টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার ঘর পাবেন। জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে মোট ৪ হাজার ৭৬৪টি ঘর নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার ২২টি গৃহহীন ও উপকারভোগি পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের কাগজপত্র হস্তান্তর করা হবে। আগামী ২৩ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের এসব পরিবারের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের কাগজপত্র হস্তান্তর করবেন।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারী) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম। সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, “মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০” প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি এবং দিনাজপুর জেলায় মোট ১৩ হাজার ২১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারের জন্য একক গৃহনির্মাণের অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষে কমপক্ষে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্তপূর্বক উক্ত জমি একক গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারসমূহকে পূনর্বাসনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আশ্রায়ন-২ প্রকল্প হতে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে মোট ৪ হাজার ৭৬৪টি ঘর নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ গৃহ নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে।

এসব গৃহের মধ্যে ৫ বা ততোধিক গৃহ যেসব স্থানে গুচ্ছ আকারে নির্মিত হচ্ছে, সেসব স্থানকে “জয় বাংলা ভিলেজ” নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১৭২টি “জয় বাংলা ভিলেজ” গড়ে উঠছে। বরাদ্দ প্রাপ্তির পর অবশিষ্ট ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলার সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় বরাদ্দকৃত গৃহ ও ২৩ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে প্রদেয় গৃহের সংখ্যা নি¤œরুপ-দিনাজপুর সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত গৃহের সংখ্যা ২৮০টি। নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৪ কোটি ৭৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পাবে ৮০টি পরিবার। বিরলে বরাদ্দকৃত ৫৫৬টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৯ কোটি ৫০ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পাবে ৩০০টি পরিবার, বোচাগঞ্জে বরাদ্দকৃত ৪৩০টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৭ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পাবে ১৮০টি পরিবার, কাহারোলে বরাদ্দকৃত ১৩৯টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ২ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পাবে ১২৯টি পরিবার, বীরগঞ্জে বরাদ্দকৃত ৩৫০টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৫ কোটি ৯৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পাবে ৩৫০টি পরিবার, খানসামায় বরাদ্দকৃত ৪১০টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৭ কোটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পাবে ২০০টি পরিবার, চিরিরবন্দরে বরাদ্দকৃত ২১৫টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা।

এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ১০০টি পরিবার, পার্বতীপুরে বরাদ্দকৃত ২৬২টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৪ কোটি ৪৮ লক্ষ ২ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ২৬২টি পরিবার, ফুলবাড়ীতে বরাদ্দকৃত ৭৬৯টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ১৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ৪০০টি পরিবার, বিরামপুরে বরাদ্দকৃত ৪১৫টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৭ কোটি ৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ৩৫০টি পরিবার, নবাবগঞ্জে বরাদ্দকৃত ২২৬টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ২২৬টি পরিবার, হাকিমপুরে বরাদ্দকৃত ১৪৫টি গৃহের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ২ কোটি ৪৭ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ১৪৫টি পরিবার ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় বরাদ্দকৃত ৫৬৭টি ঘরের নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাবে ৩০০টি পরিবার।

মোট ৪ হাজার ৭৬৪টি গৃহের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৮১ কোটি ৪৬ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়েগৃহ পাবে ৩ হাজার ২২টি পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বাস্তবায়িত প্রধানমন্ত্রীর উপহার, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের শুরু হতে এতদসংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে জনসাধারণের নিকট তুলে ধরায় দিনাজপুর জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য