দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উপজেলা পরিষদকে কার্যকরী অথবা বিলুপ্তি করার দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা। তারা বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের স্বতন্ত্র কাজ করার সুযোগ আছে কিন্তু উপজেলা পরিষদে নাই। আমরা চাই পরিপত্র অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ। নয়তো ১৯৯২ সালে যেভাবে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়েছিল সেভাবে বিলুপ্তি করা হোক।

আজ রোববার বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবিধানের নির্দেশনা ও আইনের আলোকে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ কার্যকর করার লক্ষে ৫ দফা দাবী বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে মতবিনিময় সভায় এই দাবি করা হয়।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ও দিনাজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তিনি বলেন, আইনের নির্দেশনা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পুন: পুন: প্রজ্ঞাপনকে প্রায় এক যুগের কতিপয় কর্মকর্তাদের নেতিবাচক মনোভাবের কারনে উপজেলা পর্যায় কার্যকর করা হয় নাই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জারীকৃত সকল নির্দেশনাবলী উপেক্ষা করে ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রনালয় কর্তৃক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের ন্যায় সাংঘর্ষিক ও অসামঞ্জস্য পরিপত্র এর প্রধান অন্তরায়।

প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগন, যা নিশ্চিত হবেন প্রতি স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে। কিন্তু কতিপয় কর্মকর্তার নেতিবাচক মনোভাবে ইহা বিঘিœত। এযেন জনপ্রতিনিধিবিহীন জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পাকিস্তানীরা যেরুপ বাঙালির শাসন মেনে নিতে পারে নাই তেমনি জনপ্রতিনিধিদের শাসন মেনে না নিতে পারার কতিপয় কর্মকর্তাদের অনীহা ও ষড়যন্ত্র।

এ সময় উপজেলাধীন সকল রাজস্ব জমা-বিভাজন ব্যায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে সম্পাদনে যৌথ আয়ন-ব্যয়নের আদেশ প্রদান করা হোক। জনস্বার্থে, এখাতে বিদ্যমান অনিয়ম বন্ধ করা হোক। সকল আনুষ্ঠানিকতায় আইন বর্হিভুত উপজেলা প্রশাসন ব্যবহার না করে ২০১০ সালে সরকার কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা উপজেলা পরিষদ ব্যবহার করাসহ ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিরল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু। এ সময় কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক সরকার, চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারেক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌসুমী আক্তারসহ ১৩ উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য