দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরলে ব্রিধান-২৯ জাতের প্রত্যায়িত বোরধান বীজ উৎপাদনের লক্ষে আগাম চারা রোপন চলছে। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষক এর সম্মাননা প্রাপ্ত কৃষক মোঃ মতিউর রহমান বিএডিসি দিনাজপুর কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স জোন দিনাজপুরের রসুলশাহ্পুর ব্লকের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউপি’র বসন্তপুর-২ স্কিমে স্কিম লিডার হিসাবে গত ১০ জানুয়ারি রোববার থেকে চারারোপন কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর আগে বীজ থেকে চারাগাছ উৎপাদন করে চারারোপনের জন্য জমিতে সেচ ও চাষ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়।
ইতিমধ্যে সরজমিনে ওই চারারোপন কার্যক্রম পরিদর্শন করে পরামর্শ প্রদান করেছেন, বিএডিসি’র যুগ্মপরিচালক (বীপ্র) ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, উপপরিচালক (ক.গ্রো.) মোঃ কামরুজ্জামান, উপপরিচালক (বীজ বিপনন) মোঃ মজহারুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (ক.গ্রো.) মোঃ আবদুল জলিল, সহকারী পরিচালক (ক.গ্রো.) মোসাঃ সুলতানা রাজিয়া, উপসহকারী পরিচালক (ক.গ্রো.) মোঃ মতিয়ার রহমান। গত ১০ জানুয়ারি হতে শুরু হওয়া এ চারারোপন কার্যক্রম আগামী ১৫ জানুয়ারি/২০২১ পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন কৃষক মতিউর রহমান।

সরজমিন পরিদর্শনকালে বিএডিসি’র যুগ্মপরিচালক (বীপ্র) ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানে সারি করে চারা রোপন করা হচ্ছে। প্রতি ১০ সারি পর পর এক সারি ফাঁকা রাখা হয়েছে। এর ফলে ফসল পরিচর্যায় সুবিধা হবে, যেমন বালাই নাশক প্রয়োগ ও মাঠ পরিদর্শন কার্যক্রম সুবিধা হবে এবং বীজ উৎপাদন কার্যক্রমে সুবিধা হবে ও ভালো মানের বীজ উৎপাদন সম্ভব হবে। আমরা চাই এভাবে আমাদের অন্যান্য চাষীরাও বীজ উৎপাদনে অংশগ্রহণ করুক এবং ভালোমানের বীজ উৎপাদনে আমাদের বিএডিসিকে সহযোগিতা করুক।

বিএডিসি’র চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য একজন অগ্রগামী চাষী মতিউর রহমানের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এসে উপপরিচালক (ক.গ্রো.) মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বোরবীজ আমাদের দেশের খাদ্য চাহিদার সিংহভাগ মিটিয়ে থাকে। কাজেই আমরা বোরবীজ উৎপাদন অনেক যতেœর সাথে তদারকী করি এবং চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করি। ভালো বীজে ভালো ফসল এবং একটি ভালো বীজ বপনের ফলে ১৫ থেকে ২০ ভাগ ভালো ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এ লক্ষে বিএডিসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।

কৃষক মতিউর রহমান জানান, আমি দীর্ঘদিন থেকে কৃষির সাথে জড়িত। ১০ জানুয়ারি থেকে আমি ধান রোপন শুরু করেছি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে বীজ উৎপাদন করি। এখন আমরা বীজ সার ভালোভাবে পাচ্ছি। পরবর্তীতে আমরা বীজ সার এবং মূল্য সঠিকভাবে পাইলে আমরা বীজ ভালোভাবে উৎপাদন করতে পারবো এবং দেশের খাদ্যের যোগান দিতে পারবো। ভালো বীজের ভালো ফলন। এখানে ভালো বীজ পাওয়ায় অন্যান্য বীজের থেকে উৎপাদন শতকরা ২০ ভাগ বেশি হয়। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ বীল পরিশোধের টাকা দ্রুত দিলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। বীজ উৎপাদন করতে খাদ্যের থেকে একটু খরচ বেশি হয়। তাই ভালোমানের বীজ উৎপাদনে আমাদের প্রত্যায়িত বীজধানের মূল্যটা আমরা একটু বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।

ধানের চারা রোপনকারী শ্রমিকেরা জানান, আগাম চারারোপন করায় ক্ষেতে ফসল ভালো উৎপাদন হয়। আর সারি সারি করে রোপন করার ফলে পরবর্তী পরিচর্যায় বেশ স্বস্তি মিলে।এছাড়াও ক্ষেতে রোগবালাই কম হওয়ায় অন্যান্য ফসলের থেকে শতকরা ২০ ভাগ ফসল উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। আর ক্ষেতে কাজ করে দিনের মজুরী দিনে পাওয়ায় পরিবারের সবাই স্বাচ্ছন্দে বসবাস করতে পারেন। জীবন জীবীকা নির্বাহ করতে পারেন। শ্রমিকের সাথে চাষীর সুসম্পর্ক বজায় থাকে।
বিরলে প্রত্যায়িত বোরধান বীজ উৎপাদনের লক্ষে ব্রিধান-২৯ জাতের বোরধানের চারা রোপন কার্যক্রম শুরু। বিএডিসি’র চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন ও পরামর্শ প্রদানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটছেন মাঠে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য