সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ দ্রুততম সময়ে করোনা শনাক্তের জন্য পঞ্চগড়সহ ১০ জেলায় গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী ক্যাম্পে ৫শ কিট দিয়ে এই সেবা চালু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরই মধ্যে একমাস পেড়িয়ে গেলেও পঞ্চগড়ে এই সেবায় সাড়া মিলছে না। উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়ালেও লোকলজ্জার ভয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে দ্রুততম সময়ে এই পরীক্ষার জন্য অনেকই আগ্রহী হচ্ছে না। এ কারণে শুধু র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট নয়; আরটিপিসিআর ল্যাবের পরীক্ষাও অনেক কমে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এসব রোগিদের মাধ্যমে নতুন করে করোনা পজিটিভ রোগির সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অস্থায়ী ক্যাম্পে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কেবলমাত্র যাদের করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন তারাই এই পরীক্ষা করাতে পারছেন। একজন মেডিকেল অফিসার ও ২ জন মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট এই সেবা প্রদান করা হচ্ছে। যাদের করোনা নেগেটিভ হচ্ছে তাদের নমুনা দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে জেলায় পাঁচশ’ শত কিট পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্টে গতকাল রোববার পর্যন্ত ৭৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। বাকি ৬২ জনের ফলাফল নেগেটিভ আসায় তাদের নমুনা পুনরায় পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এই পরীক্ষায় ২ জনের ফলাফল পজিটিভ আসে। সব মিলিয়ে ৭৫ জনের নমুনায় ১৫ জনের ফল পজেটিভ পাওয়া যায়।

করোনার শুরু থেকে পঞ্চগড় জেলার রোগিদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হতো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে। পরবর্তিতে তা দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ৮ জানুয়ারী পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা থেকে ৪ হাজার ৯৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৪ হাজার ৯৫১ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে ৭৭৪ জনের। এরই মধ্যে সুস্থ্যতার ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৪০ জন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪ জন এবং মারা গেছেন ২০ জন।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান বলেন, করোনা শুরুর দিকে অনেকেই আগ্রহী হয়ে নমুনা দিতে আসতো বা খবর পেলে আমরা টিম পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতাম। কিন্তু ব্যাপক প্রচারণা করা সত্ত্বেও এখন উপসর্গ থাকার পরও পরীক্ষা করতে আসছে না। টেস্ট করলে ফলাফল পজিটিভ আসবে এটা নিশ্চিত জানার পরও তারা টেস্ট করাতে আসছে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন অনেকেই রোগটি লুকাতে চাইছে। টেস্টের পর ফলাফল পজিটিভ এলে লোকজন তাদের একঘরে করে রাখবে এই ভয়েই তারা পরীক্ষা করতে আসছে না। এ কারণে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর ল্যাবের পরীক্ষাও অনেক কমে এসেছে। তাই বলে এটা বলা যাবে না যে পঞ্চগড়ে করোনা পজিটিভ রোগি নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য