অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এক মৃত ব্যক্তির কবর খোরার সময় আরবি অক্ষর লেখা বের হয়েছে কবরে দুই পাশের মাটিতে। কবরের দুই পাঁজরের পাশে বিসমিল্লাহ, সুরা ইয়াছিন অক্ষরের কিছু অংশ এবং পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম পানিমাছকুটি গ্রামে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখার জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারও মানুষের ঢল নামে। মুহূর্তের মধ্যেই ভিড় জমায় কবরের পাশে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে,ওই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বার আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক এনজিওতে চাকরি করার অবস্থায় গত বুধবার রাত ১০টার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার লাশ স্বজনরা নিয়ে এসে নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে প্রস্তুতি নেন। তার লাশ দাফনের জন্য মাইকে প্রচার হয় বাদ জহুর।

এদিকে, কবর খোড়ার জন্য স্থানীয় আব্দুল বারী ও আমির হোসেন কবর খোড়া শুরু করে। তার কবরে বেশি ভাগ বালুমাটি ছিল। কবরের ওপরের অংশ খোড়ার সময় বের হয়ে আসে আরবি অক্ষর। বিষয়টি প্রথমে তারা দেখে চমকে যান। পরে কোদাল দিয়ে তারা যতবার মাটি কেটে দেন কিন্তু লেখা বন্ধ না হয়ে পরিষ্কার হয়ে উঠে আরবি হরফ গুলো। কবরের দুই পাঁজরের পাশে বিসমিল্লাহ, সুরা ইয়াসিন অক্ষরের কিছু অংশ। পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম। মৃত ঐ ব্যক্তি এক সন্তানের জনক ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম হাজরা বেগম। সে এখন গর্ভবতী অবস্থায় রয়েছে। সে ছাত্রজীবন থেকে নামাজি ছিলেন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।

মৃতের বড় ভাই মো. ইব্রাহিম আলী জানান, আমার ছোট ভাই ছোটবেলা থেকে নামাজি ছিলেন। আমার জানা মতে বেঁচে থাকা অবস্থায় সে কোন দিন মিথ্যা কথা বলেননি। তার স্ত্রী সন্তানও নামাজ কালাম পড়েন নিয়মিত।

বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মমিনুল ইসলাম জানান, কবরে আরবি অক্ষর আমার জীবনে দেখি নাই। এ প্রথম দৃশ্য চোখে পড়ে গেল। এটা মহান আল্লাহর এক অলৌকিক শক্তি।

নন্দের কুটি চৌপথী জামে মসজিদের ইমাম ও বড়লই এলাকার হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক জানান, কবরের দুই পাঁজরের পাশে বিসমিল্লাহ, সুরা ইয়াসিন অক্ষরের কিছু অংশ। পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম। আমরা নিজেরাই পড়েছি। এটা আল্লাহ প্রদত্ত।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাজীব কুমার রায় জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লাশ দ্রুত দাফন করার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে অবগত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুর রহমান জানান, খবর শুনার পর পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য