সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা মামলায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মতিউর রহমান তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের বালুবাড়ি এলাকার পাথর ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ ব্যবসা সূত্রে বাংলাবান্ধা এলাকায় ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি বাড়ির পাশে ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন করেন। গত বছরের ১৩ মার্চ রাতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ওই জমি দখলে নিতে হামিদের বসাবাড়িতে আক্রমণ করেন। এসময় হামিদের স্ত্রী আমেনা বেগমকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করা হয়।

এসময় তাদের হামলায় আমেনা বেগমম আত্মীয় সালেকা খাতুনসহ কয়েকজন গুরুত্বর আহত হন। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ আব্দুল হামিদ বাদি হয়ে তেঁতুলিয়া আমলী আদালত-৪’এ বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলনসহ ১২ জনের নামে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদালত ৩০ মার্চ মেডিক্যাল সার্টিফিকেট তলব করে। ওই দিনই আদালত ১০ জনের নামে সমন জারি করে এবং ৪ নভেম্বর শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। আমলী আদালত-৪ এর বিচারক ৪ জন আসামীকে স্থায়ী জামিন দেন এবং ৬ জন আসামীর নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। আদালত ৮ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য়্য করেন। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আদালতে সকল আসামী হাজির হলে আদালত চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামীদের জামিন বহাল রাখেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব জানান, সোমবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলনসহ ৫ জন আসামী জামিন নিতে আদালতে উপস্থিত হন। শুনানী শেষে আদালত বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন ও সাইদুল ইসলামকে জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। অন্য আসামীদের জামিন বহাল রাখেন।

বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব, অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান রাশেদ ও আল ফয়সাল লেলিন এবং আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট আবু বকর ছিদ্দিক, অ্যাডভোকেট হকিকুল ইসলাম হকি ও অ্যাডভোকেট নবিউর রহমান আপেল শুনানীতে অংশ নেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য