সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় থেকেঃ দিনে কড়া রোদের কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় গত দুইদিন ধরে আবারও কমছে পঞ্চগড়ের সর্বনি¤œ মাপমাত্রা। গতকাল শনিবারও সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এটি শনিবারের দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

এর আগের দিন শুক্রবার এখানে দেশের সর্বনি¤œ মাপমাত্রা ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অফিসের হিসেবে ৬-৮ ডিগ্রি সর্বনি¤œ মাপমাত্রা হলে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। কিন্তু সর্বনি¤œ তাপমাত্রা কমে এলেও দিনে কড়া রোদের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।

সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ তাপমাত্রার ব্যবধান বেশি হওয়ায় সে হিসেবে শীতের তীব্রতা নাই পঞ্চগড়ে। সারাদিন সূর্যের কড়া রোদ থাকায় পঞ্চগড়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় রাতে কনকনে শীত অনুভূত হওয়ায় দূর্ভোগ কমেনি। শীতবস্ত্রের স্বল্পতার কারনে এখনও অনেক মানুষ শীতবস্ত্রের দেখা পায়নি। বিকেল থেকে গভীর রাত এবং সকালে এসকল মানুষ খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। বেসরকারি হিসেবে পঞ্চগড় জেলায় শীতার্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখ। তবে এখন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে মাত্র কয়েক হাজার। আগের বরাদ্দের পর নতুন করে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে দিনে গরম আর রাতে কনকনে ঠান্ডার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। এর মধ্যে অন্যতম ডায়রিয়া ও সর্দি কাশি। শিশুদের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্য অনেকটাই বেশি বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, দিনে গরম ও রাতে প্রচন্ড শীতের কারণে এখন প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও সর্দি কাশি নিয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এদের মধ্যে যাদের পানি শুন্যতা বেশি এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান জানান, সরকারিভাবে ২১ হাজার ২শ কম্বল, পাঁচ হাজার শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা ইতোমধ্যে বিতরণও করা হয়েছে। কম্বল কেনার জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৩০ লাখ টাকা প্রতি উপজেলায় ৬ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে। তারা এই টাকা দিয়ে শীতবস্ত্র কিনে বিতরণ শেষ করেছে। নতুন করে আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই টাকা দিয়ে শীতবস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে। বেসরকারি পর্যায়েও ইতোমধ্যে অনেক শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য