ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা গণ-পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতিকে বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহার করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

২৪ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতিকে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা অধ্যক্ষ মতির সঙ্গে দেখা করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

গণ-পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন- ফুলবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ, সদস্য সচিব মাহবুব আলম মিলন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকিউর রহমান চঞ্চল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোখলেসুর রহমান নবাব, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লিটনসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী।

উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, খুরশিদ আলম মতিকে বহিষ্কার কেন্দ্রীয় কমিটির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা নবীউল ইসলাম বলেন, ১৯৮৯ সালে বিএনপি নেতা হাজী মনসুর আলী সরকার ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপিকে ভেঙে দেন। এতে নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়ে বিএনপি। এরপর অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বিএনপির হাল ধরেন। কোনো কারণ ছাড়াই তার মতো যোগ্য নেতা ও দক্ষ সংগঠককে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে উপজেলা বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এ কারণে আমরা অধ্যক্ষ মতির বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, যার হাত ধরে উপজেলা ছাত্রদল-বিএনপির অসংখ্য নেতা তৈরি হয়েছে তাকেই বহিষ্কার করা হলো। এ আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে আমরা গণ-পদত্যাগ করব।

এদিকে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতিকে কী কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেনি দিনাজপুর জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এ বিষয়ে দাফতরিকভাবে কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি।

দিনাজপুর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান মিয়া বলেন, চলমান ফুলবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর প্রচারণায় কাজ করেননি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি। তার ভাই মাহমুদ আলম লিটন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তিনি সেখানেই সময় দিচ্ছেন। এ কারণে তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তবে কেন্দ্র থেকে কিছু না বলা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি জানান, উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত ছাড়াই একজন জনসমর্থনহীন ব্যক্তিকে পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ কারণে আমি নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে এসেছি। আমার ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলেও আমি এটাই করতাম। বহিষ্কারের বিষয়ে আমাকে কোনো চিঠি এখনো দেয়া হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য