দিনাজপুর (হাবিপ্রবি) সংবাদাতাঃ কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অবমাননার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (হাবিপ্রবি) এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির সদস্যরা।

মানববন্ধনে গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাঁর জন্ম নাহলে এ দেশ স্বাধীন হত’না। তাঁর ভাস্কর্যকে অবমাননা করা মানে বাঙালি জাতির অনুভুতিতে আঘাত করা। এ জাতির গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করা। বিগত ৪ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর যারা আঘাত করেছে তাঁরা মূলত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ওপরই আঘাত করেছে। যারা এধরনের কাজ করতে পারে তাঁরা কখনোই এদেশের ভালো চাইতে পারেনা।তাঁরা মূলত এদেশে থাকলেও তাঁদের চিন্তা-চেতনা সেই ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকার,আলবদর আলশামসের বাহীনীর মতই রয়েছে। কারণ তাঁরা কখনোই চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। তাঁরা মূলত একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করতে চায়, কিন্তু তাঁদের সেই স্বপ্ন কোনদিনই পূরণ হবে না এবং হতে দেয়া হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানম বলেন, ‘ভাস্কর্যের সঙ্গে ধর্মের কোন সম্পর্ক বা বিরোধ নেই। বিভিন্ন মুসলিম সভ্যতার দিকে তাকালে দেখা যায় অনেক ইসলামি দেশগুলো ভাস্কর্যকে তাদের সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বির্নিমানে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে উদার মন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্রনেতা রাসেল আলভী ও রিয়াদ খান বলেন, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে লাল-সবুজের পতাকা। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে অবমাননা করা মানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান করা, সমগ্র বাংলাদেশকে তথা বাঙালি জাতিকে অপমান করা। যারা এই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোস্তাফিজার রহমান, প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রোজিনা ইয়াসমিন লাকি, প্রফেসর ড. মো. তারিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. খালেদ হোসেন, কোষাধক্ষ্য প্রফেসর ড.মফিজ উল ইসলাম , সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড.ইমরান পারভেজ সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ । পরিষদের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মচারীবৃন্দসহ্ আরও অনেকেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য