কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম টানার চেষ্টায় স্কুল ও প্রয়োজনীয় নয় এমন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে কঠোর লকডাউন পর্বে প্রবেশ করেছে জার্মানি।

দেশটিতে এসব বিধিনিষেধ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বড়দিনের সময় এ বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল থাকবে; সেসময় একটি পরিবার সর্বোচ্চ চার জন পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।

বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাসে আরও ৯৫২ জনের মৃত্যু এবং নতুন ২৭ হাজার ৭২৮ জন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বড়দিনের আগে বিধিনিষেধ কঠোর হচ্ছে; ফ্রান্সে দেওয়া হয়েছে সান্ধ্যকালীন কারফিউ।

জার্মানিতে নতুন বিধিনিষেধে কেবল সুপারস্টোর ও ব্যাংকের মতো প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে নভেম্বর থেকেই রেস্তোরাঁ, বার ও বিভিন্ন অবকাশযাপন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে; কিছু কিছু অঞ্চল নিজেরাই তাদের মতো করে লকডাউন দিয়েছে।

বিধিনিষেধের ফলে যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে সেগুলোর মধ্যে চুল কাটার সেলুনও আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জনসমাগমস্থল বিশেষ করে গরম মশলাযুক্ত ওয়াইনের জনপ্রিয় দোকানগুলোতে অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার ৯৫২ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হলেও এর মধ্যে আগের কয়েকদিন তালিকাভুক্ত হয়নি এমন অনেক মৃতের নামও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জার্মানিতে কোভিড-১৯ মোকাবেলা দেখভালের দায়িত্বে থাকা রবার্ট কখ্ ইনস্টিটিউটের প্রধান লোথার ভিলা পরিস্থিতিকে ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গুরুতর’ বলে মন্তব্য করেছেন।

“রোগীর সংখ্যা যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং এট বাড়ছেই। বিপদ হচ্ছে- পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং মহামারী ও এর পরিণতিকে মোকাবেলা করা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠতে পারে,” বলেছেন তিনি।

এমন এক সময়ে জার্মানিতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যখন দেশটির সরকার ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সিকে (ইএমএ) যত দ্রুত সম্ভব ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ টিকা অনুমোদনে চাপ দিচ্ছে।

ফাইজারের এ টিকাটি জার্মানিতেই বানানো হলেও এটি এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পায়নি।

অন্যদিকে নিজ নিজ দেশের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে টিকাটির ব্যাপক প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য