ফ্রান্সে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় জারি করা ‘স্টে-অ্যাট-হোম’ আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সান্ধ্যকালীন কারফিউ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ‘স্টে-অ্যাট-হোম’ আদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রান্সের লোকজন স্বাধীনভাবে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন, কারণ এতদিন তারা শুধু সীমিত সময়ের জন্য এবং কেনাকাটা, ব্যায়াম ও অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন- বাকি সময় বাড়িতেই অবস্থান করতে হয়েছে তাদের।

কিন্তু ওই দিন রাত থেকেই সান্ধ্যকালীন কারফিউ জারি করা হলে বিপাকে পড়ে যান রাজধানী প্যারিসের অনেক বাসিন্দা।

রাত ৮টা থেকে শুরু হতে যাওয়া কারফিউয়ের কারণে নগরীর কেন্দ্রস্থলের বুটিকের দোকানগুলো তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। দোকানিরা বাড়িতে ফেরার জন্য তাড়াহুড়া শুরু করে দেন।

“আমি সময়ের কথা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিলাম, এত দেরী হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি,” বলেন প্যারিসের ৪০ বছর বয়সী বাসিন্দা জুন। কারফিউ শুরুর আগে তিনি প্যারিসের অপেরা ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় ছিলেন; বলেন, “আমি বাসায় যাচ্ছি।”

সচরাচর জমজমাট এই বিপণিবিতান এলাকার দোকানগুলোর সামনের অংশ এ সময় অন্ধকার ঘিরে ছিল। রাস্তায় অল্প কিছু লোক ছিল, তাদের অধিকাংশই মেট্রো স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন।

কারফিউ স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময় লোকজন শুধু কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে, সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য অথবা জরুরি ‍ওষুধ কেনার জন্য বের হতে পারবেন। এর বাইরে যিনি কারফিউ ভাঙবেন তাকে ১৩৫ ইউরো জরিমানা দিতে হবে।

নতুন এই বিধি কঠোরভাবে পালন করা হবে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেহার্দ ডেহমানা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্যারিসের পশ্চিম অংশে পুলিশের সঙ্গে টহলে যোগ দিয়ে লোকজন আইন মানছেন কিনা তা তদারকি করেন।

“সরকার নির্দিষ্টভাবে বেআইনি জমায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে,” বলেছেন তিনি।

গত মাস থেকে ফ্রান্সে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। সম্প্রতি সংক্রমণের হার দ্রুত হ্রাস পেলেও ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটির দিনগুলোতে লোকজন অসতর্ক হয়ে উঠলে দেশজুড়ে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য